একদা এক দয়ালু ও ন্যায়পরায়ণ ও হৃদয়বান বাদশাহ ছিলেন। তিনি সব সময় প্রজাসাধারনের সুখ-সাচ্ছন্দের কথা চিন্তা করতেন। আর সময় পেলে রাজ্যের সার্বিক অবস্থা নিজ চোখে দেখার জন্য রাজপথ দিয়ে চলতেন। তেমনি একদিন রাজপথে চলার সময় ঘটে যায় এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। এখানে সেই ঘটনাটি আলোচনা করা হলো।
একদিন বাদশাহ ঘোড়া নিয়ে রাজপথে বেরিয়ে পড়লেন। রাজ কর্মচারী ও প্রজাসাধারণ কেউ এ খবর জানতো না। তাই রাজপথে বাদশাহকে একাকি ঘোড়ার পিঠে দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল। বাদশাহ একে একে সবার সাথে কথা বলতে লাগলেন। তাদের দিনকাল কেমন যাচ্ছে, সুখে যাচ্ছে নাকি দুঃখে যাচ্ছে জানতে
চাইলেন।
এদিকে বাকিরা আচমকা বাদশাহকে দেখে দ্রুত পথ থেকে সরে যাচ্ছিল অর্থাৎ রাস্তা ফাকা করছিলো। কিন্তু তখন ঘটল এক বিপত্তি। একটু দুরেই এক বৃদ্ধ ব্যক্তি যিনি একটু দুর্বল হওয়ায় দ্রুত সাইড হতে পারলো না। উপরন্তু ভীড়ের মাঝে এক ব্যক্তির সাথে তার ধাক্কা লাগায় তিনি পাশের একটি নর্দমায় পড়ে গেলেন।
নর্দমাটি ছিল খুবই ময়লাযুক্ত। কারন শহরের সমস্ত আবর্জনা এই নর্দমায় ফেলা হতো। যাহোক বৃদ্ধা নর্দমা থেকে উঠার জন্য খুব চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তু দুর্বল হওয়ায় তিনি উপরে উঠতে পারছিলেন না।
কিছুক্ষণ প্রাণপণ চেষ্টা করার পর তার হাত-পা নিস্তেজ হয়ে এলো। তিনি ডুবে যেতে লাগলেন। একটু পর তার সম্পুর্ণ শরীর ও মাথা ডুবে গেল। সাহায্য পাওয়ার আশায় শুধু দুটি হাত উচু করে রাখলেন।
নিকটের সবাই শুধু তামাশা দেখতেছে। অনেকে আবার বৃদ্ধটির জন্য সহানুভূতি দেখাচ্ছে। কিন্তু কেউ বাঁচানোর জন্য নর্দমায় নামছে না। কোলাহল শুনে বাদশাহর চোখ এবার পঁচা নর্দমার দিকে গেল। দেখতে পেলেন, নর্দমার পানির উপরে দুটি হাত নড়াচড়া করতেছে। বাদশাহ নর্দমা থেকে বেশ দুরে রয়েছেন বিধায় এতক্ষণ বিষয়টি লক্ষ্য করতে পারেন নি।
এবার বাদশাহ দ্রুত সেখানে গেলেন। আর ঘোড়া থেকে লাফ দিয়ে নেমে পড়লেন। তারপর ঝাপিয়ে পড়লেন নর্দমায়। অনেক কষ্টে বৃদ্ধাকে উপরে উঠাতে সক্ষম হলেন। নিজেকে তুচ্ছ মনে করে নিশ্চিত মৃত্যুর হাতে থেকে রক্ষা করলেন।
উপস্থিত সবাই বাদশাহর এমন কান্ড দেখে অবাক হয়ে গেল। কেউ ভাবতেও পারে নি স্বয়ং বাদশাহ সামান্য একজন বৃদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য পঁচা নর্দমায় ঝাপিয়ে পড়বেন। মানুষের জীবন তার কাছে এত মুল্যবান। তাদের কি সৌভাগ্য এমন মহৎ হৃদয়ের বাদশাহ পেয়েছে। তাদের মহামান্য বাদশাহ কি দয়ালু, হৃদয়বান।
0 Comments