ইয়ামেনের এক বাদশা ছিল খুবই সরলমনা। তিনি রাজ্যের উচু-নিচু, ধনী-গরীব সকল শ্রেণীর লোকের সাথে উঠা-বসা, চলাফেরা করতেন। তার এই সরলমনার সুযোগ নিয়ে লোভি ব্যক্তিরা চামচামি করতো। কারন চামচামি করে রাজাকে খুশি করে উপহার হাতিয়ে নেয়া যেত। তাই চামচারা সব সময় রাজার দরবারে ঘোরাফেরা করতো।
তবে সবচেয়ে বেশি চামচাগিরি করতো ইয়াফিস নামক যুবক। সে বানিয়ে বানিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন গোপন কথা বলতো। সহজ-সরল রাজা মনে করতেন আহা! ইয়াফিস কত ভালো! ও আমার সবসময় তার ভালোর জন্য এসব বলে। খুশি হয়ে রাজা তাকে উপযুক্ত পুরষ্কার দিতেন। এভাবে চলতে চলতে রাজাও ইয়াফিসকে তার গোপন কথা বলতে লাগলো।
একদিন রাজা নিজে ইয়াফিস তার কক্ষে ডেকে এনে বললেন, "আজ তোকে একটা মারাত্নক গোপন কথা বলতে চাই। খবরদার! কাউকে বলবি না কিন্তু। ইয়াফিস রাজার গোপন কথা শুনার জন্য হাসফাস করতে লাগলো। সে রাজার নিকটে হাজারো কিরা-কসম কাটলো। বিশ্বস্ত রাজা তাকে বলল, "তাহলে শোন, আমার সৎ বড় ভাই আমাকে হত্যা করে এই রাজ্যের নতুন রাজা হতে চায়। কিন্তু আমি তা হতে দিতে পারি না। কারন আমার ভাই নিচ প্রকৃতির লোক অন্যায়-জুলুমকারী। সে রাজা হলে প্রজাসাধারণে অশান্তি নেমে আসবে"।
একথা শুনে ইয়াফিস রাজাকে বলল, "তাহলে মহারাজ আপনি কি করতে চাচ্ছেন? রাজা বলল, "দেখি কি করা যায়। আমি ভাইকে আগে বুঝাইতো। কথা না শুনলে বাকিটা তারপর সিদ্ধান্ত নিব।
রাজা ইয়াফিসকে চিনতে পারে নি। ইয়াফিস ছিল ধুর্ত প্রকৃতির লোক। তার কাজই অন্যের নামে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বলে ফায়দা লূটে নেয়া। হলোও তাই। সে চলে গেল রাজার বড় ভাইয়ের নিকটে। তারপর রাজার নামে একের পর এক মিথ্যা দুর্ণাম রটালো। ইয়াফিস বলল, "আপনার ছোট ভাই যিনি বর্তমান রাজা তিনি অচিরেই আপনাকে হত্যা করবে।
অতি গোপন কথা বলায় রাজার বড় ভাই ইয়াফিসের উপর খুব খুশি হলো। তারপর মুল্যবান উপঢৌকন পেয়ে ইয়াফিস চলে এলো। এর কিছু দিন পর সত্যিই বড় ভাইয়ের হাতে রাজা খুন হলো। নতুন রাজা সিংহাসনে বসেই সর্বপ্রথম ইয়াফিসকে গ্রেফতার করার আদেশ দিলেন। ইয়াফিস কে রাজার নিকটে আনা হলো। ইয়াফিস বললো, " আমাকে কেন গ্রেফতার করা হলো। আমি কোন অপরাধ করেছি বলেতো মনে হয় না।
তখন রাজা বলল, তুই হচ্ছিস পাক্কা মোনাফেক যে অন্যের গোপন কথা প্রকাশ করে দিস। যদিও তোর গোপন কথার জন্য আমি সহজেই রাজা হতে পেরেছি, তবুও কালযে তুই আমার গোপন কথা আমার শত্রুপক্ষকে বলে দিবি না তার কি নিশ্চয়তা আছে ? তোর মতো মোনাফিককে বাঁচিয়ে রেখে আমারই ক্ষতি। তাই তোর উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড।
একথা শুনে ইয়াফিস কেঁদে গড়াগড়া খেতে লাগলো। সে নিজের ভুল বুঝতে পারলো ঠিকই কিন্তু বড্ড দেরি করে ফেলেছে। পরদিন তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হলো।
0 Comments