উমার ( রা ) ও তার সৎ পুত্ৰবধুর একটি ঘটনা



ইসলামের জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমার (রা) রাত্ৰিতে ছদ্নবেশ ধারণ করে প্রজাদের খোজ খবর নিতেন। প্ৰতিদিনের মতো আজকেও নিঃশব্দে হেটে চলছেন মদিনার অলিগলিতে। তখন ছিল প্ৰায় মধ্যরাত।

তিনি যখন একটি কুঁড়েঘরের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন ঘর থেকে এক মহিলা ও তার মেয়ের কন্ঠস্বর শুনে দাড়িয়ে গেলেন। মহিলাটি তার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলছে, “দুধ বেঁচতে দেয়ার সময় দুধের মধ্যে একটু পানি মিশিয়ে দিসনা কেন? তুই তো জানিস মা, কি অভাব আমাদের। কত কষ্ট করে সংসারটা চালাতে হয়"।

ঐ এটকু দুধে আর কয়টা পয়সা হবে রে! একটু পানি মেশালে দুধের পরিমাণটা বেশি হতো। বেশি দামে বেচা যেত। তাহলে কিছুটা স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে পেতাম”।

মেয়েটি বলল, “কিন্তু মা, তুমি কি আমাদের খলিফার আদেশ ভুলে গেলে? মহামান্য খলিফা তো বলেছেন দুধের মধ্যে কেউ যেন পানি না মেশায়।”

মা বলল, “খলিফা বলেছেন, তাতে সমস্যা কি হয়েছে? এখানে আমরা কি করছি এটাতো খলীফা বা তার কোনো কর্মচারী তো আর দেখতে আসছেন না"।

মেয়েটি বলল, “তবুও মা, খলিফা বা তার কোনো সহকারী দেখুক আর নাই দেখুক, তার আদেশতো আমাদের মেনে চলা উচিত"। তা ছাড়া মা, একটা বিষয় তুমি লক্ষ্য করছো কি? এই ব্যাপারটা খলীফা যদি নাও জানেন, মহান আল্লাহ তো জানবেন। তিনি তো সব কিছু জানেন, দেখেন, শোনেন"। 

পরকালে তো আল্লাহর নিকট পাপ পূণ্যের হিসাব দিতে হবে। তিনি আমাদের জবাবদিহি করবেন। তখন আমরা কি উত্তর দিব?"

মা-মেয়ের কথোপকথন শোনার পর উমার (রা) নীরবে প্ৰস্থান করলেন। পথ চলতে চলতে তিনি নিজের সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলেন, “শুনলে তো এদের কথা? এই মেয়েটি অত্যন্ত সৎ ও খোদাভীরু। এরকম সততার জন্য মেয়েটিকে কি পুরষ্কার দেয়া যেতে পারে ?”

তার সঙ্গী বলল, “ আমি মনে করি, তাকে বড়সড় একটা পুরস্কার দেয়া উচিত। যেমন ধরুন, এক হাজার দিরহাম।”

খলিফা বললেন, “না, এটা তার জন্য যথেষ্ট হবে না। অবশ্যই আমি তাকে এরকম সততার সর্বোচ্চ পুরস্কার দেব। তবে পুরষ্কারটা একটু ভিন্নধৰ্মী"।

খলীফার সঙ্গী তখন অবাক হয়ে বলল, "কী পুরস্কার দিতে চাচ্ছেন আপনি?”

খলিফা লোক দিয়ে পরদিন সকালবেলাই মেয়েটিকে ডেকে পাঠালেন। মেয়েটি খলিফার আদেশ শুনে দরবারে এসে হাজির হলো। তৎকালীন সময়ের অৰ্ধপৃথিবির মহাশক্তিধর শাসনকৰ্তার ভয়ে মেয়েটি কাপতে ছিল।

তখন খলীফা তাঁর ছেলেদেরকে ডাকলেন। তিনি ছেলেদের নিকট গতরাতের ঘটনাটি বললেন এবং মেয়েটির সততার প্ৰশংসা করলেন।

খলিফা বললেনঃ “হে আমার পুত্ৰরা, আমি চাই, তোমাদের মধ্যে যে কোন একজন এই মেয়েটিকে বিয়ে করুক। আমার প্ৰস্তাবে কে রাজি আছো ?"

পিতার প্ৰস্তাবে এক ছেলে তৎক্ষনাৎ রাজি হলো। মেয়েটিও বিয়েতে সম্মতি দিল। সততার কারনে মেয়েটি মহামান্য খলীফার সম্মানিত পুত্রবধূতে পরিণত হলো।

বিভিন্ন কিতাবে বৰ্ণিত আছে যে, পরবর্তীসময়ে মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় ওমর ও খোলাফায়ে রাশেদের পঞ্চম খলিফা হিসাবে যাকে আখ্যায়িত করা হয় সেই মহা ন্যায়পরায়ণ শাসক, ওমর বিন আবদুল আযীয (র) এই মেয়েরই দৌহিত্র ছিলেন।

সাহাবীদের আরো জীবনী গল্প পড়ুন নিচের লিংকে ক্লিক করে

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/2021/10/blog-post_66.html?m=1


ইসলামিক সব ধরনের গল্প পড়তে নিচের দেওয়া লিংকে ক্লিক করুন।

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/?m=1


শিক্ষনীয় গল্প পড়ুন নিচের লিংকে ক্লিক করে 

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/2021/10/blog-post_88.html?m=1



Post a Comment

0 Comments