ইসলামিক মজার ঘটনা ১
হযরত উমার (রা) ও মদ্যপায়ী যুবক
হযরত উমার (রা) ও মধ্যপায়ী যুবকের ইসলামিক গল্প : তখন ছিল হযরত ওমর (রা) খিলাফতকাল। তার শাসনামলের সময় মদিনায় এক মদ্যপায়ী যুবক ছিল। একদিন রাতে যুবকটি একটি মদের বোতল নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল।
সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল হযরত ওমর (রা)। মদ্যপায়ীঃ যুবকটি হঠাৎ তাকে দেখে ঘাবড়ে গেল। তড়িঘড়ি করে বোতলটি তার জামার ভেতর গুজে রাখল। কারণ উমার রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কাছে মদের বোতল অবস্থায় ধরা পড়লে ইহজীবন তার এখানেই সমাপ্তি।
উনি তো সেই উমার যাকে দেখলে শয়তানও ভয়ে পলায়ন করতো। তাহলে মানুষের কি অবস্থা হতে পারে? আল্লাহর নবী (সাঃ) বলতেন, হে উমার তোমাকে দেখলে শয়তান ভয় পায়।
বিষয়টি হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর দৃষ্টি গোচর হল। তিনি একটু দূর থেকে লক্ষ্য করলেন এক যুবকটি কিসের একটা বোতল তার পাজামার নীচে গুজে রাখতেছিল। তিনি যুবকটির দিকে এগিয়ে এলেন।
কৌতূহলবশত ওমর রাদিআল্লাহু তাআ'লা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন : ওহে যুবক! তোমার জামার ভেতর কি লুকিয়ে রেখেছো?? আমাকে দেখাও ?
একথা শুনে যুবকটির অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল। এই কঠিন মূহুর্তের জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। সে তাঁর জঘন্য কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা ও অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহর নিকট তাওবা করতে লাগলেন।
যুবকটি তখন মনে মনে আল্লাহতালার নিকট বলতে লাগল : হে মহান আল্লাহ। তুমি উমর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর সামনে আমাকে লজ্জিত করোনা। তুমি খলিফার নিকট আমার পাপকৰ্ম গুলো প্রকাশ করো না। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দেও। আমি তোমার নিকট খাটি দেলে তাওবাহ করছি এবং প্রতিজ্ঞা করছি যে যতদিন বেঁচে থাকব আমি আর কখনো মদ পান করবো না। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমাকে খলিফার শাস্তি থেকে রক্ষা করো।
যুবকটি যখন মনে মনে তাওবা করছিল তখন উমার (রা) তাকে আবার বোতলটি দেখানোর জন্য বললেন। তখন বলল, "হে মহামান্য খলিফা, জামার ভেতর একটি সিরকার বোতল আছে"। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার কথা বিশ্বাস করল না। তাই আবার বোতলটি দেখানোর জন্য বলল।
যুবকটি তখন আল্লাহর উপর পূৰ্ণবিশ্বাস ও আস্থা রেখে বোতলটি বের করল। সত্যিই দেখা গেল এটি একটি সিরকার বোতল। আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেছেন
এতে বোঝা গেল, কেউ যদি খাঁটি দিলে আল্লাহ তাআলার নিকট তওবা করে এই শর্তে যে আর কখনো এ ধরনের খারাপ কাজ করবেনা তখন আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল করে নেন। তাঁর জীবনের সমস্ত গুনাহখাতা মাফ করে দেন।
ইসলামিক মজার কাহিনী ২
হজ্জযাত্রী পিতা ও পুত্রের ঘটনা
এটা অনেক বছর আগের একটি ঘটনা। এক বৃদ্ধ পিতা তাঁর ছেলেকে নিয়ে হজ্জ করতে যাবে বলে স্থির করল। হজ্জের মৌসুম চলে এলো। নিৰ্দিষ্ট সময়ে তারা একটি কাফেলার সাথে হজ্জ করার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। তারা উঠের পিঠে চড়ে যাচ্ছিল।
বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর বৃদ্ধ পিতা তাঁর ছেলেকে বলল ,"তুমি এই কাফেলার সঙ্গে যেতে থাকো। আমাকে প্ৰকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হচ্ছে। তবে যত দ্ৰুত সম্ভব কাজ শেষ করে তোমাদের সাথে আবার যোগ দিব। একদম চিন্তা করো না বেটা। কোনো ভয় পাবে না। তুমি তাদের সাথে নিরাপদে যেতে থাকো। তখন বৃদ্ধ লোকটি উঠ থেকে নেমে আড়ালে চলে গেলেন। ছেলেটি হজ্জব্ৰত কাফেলার সাথে যেতে লাগল।
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা পড়ে গেল। কিন্তু এখনো ছেলেটির পিতা তাদের সাথে যোগ দেয় নি। রাস্তায় বাবার হয়ত কোনো বিপদ হয়েছে তাই ছেলেটি বাবাকে খুজতে লাগল। আশেপাশে অনেক জায়গায় বাবাকে খুজতে লাগলেন কিন্তু তাঁকে কোথাও দেখতে পেলনা। হতাশা আর ভয় ছেলেটিকে একদম গ্ৰাস করে ফেলল। তাই সে উল্টো দিকে হাঁটতে শুরু করলো। মাইলের পর মাইল হেঁটে সে অনেকটা পথ পাড়ি দিল। অবশেষে সে তার পিতাকে দুরের একটি গাছের নিচে দেখলো।
ছেলেটি দৌড়ে গিয়ে তার পিতাকে জড়িয়ে ধরল। আর এখানে বসে থাকার কারণ জানতে চাইল। বৃদ্ধ লোকটি বললেন যে তিনি পথ হারিয়ে এখানে বসে রয়েছেন।তখন পিতাকে নিজ কাধে তুলে ছেলেটি তাদের হজ্জ কাফেলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল।
বৃদ্ধ লোকটি তার ছেলেকে কাধ থেকে নামিয়ে দিতে বললেন কেননা তিনি হেঁটে পারবেন। ছেলে বলল : "তুমি কোনো চিন্তা কোরো না বাবা। আমার কোন সমস্যা হচ্ছে না। তোমাকে বহন করার মতো যথেষ্ট শক্তি আল্লাহপাক আমাকে দিয়েছে।"
ছেলের কথা শুনে বৃদ্ধ পিতা হঠাৎ কাঁদতে শুরু করলেন। পিতার চোখের পানি ছেলের শরীরে পড়তে লাগল।
বাবার কান্না দেখে ছেলেটি বলল," এভাবে কাঁদছো কেনো বাবা ?? কেদো না বাবা আমার কোন কষ্ট হচ্ছেনা। তোমার ওজন বহন করার মতো যথেষ্ট শক্তি আছে।
বাবা বললেন, বেটা! আমি সেই জন্য কাঁদছি না। আমি কাঁদছি এই জন্যে যে আমি যখন তোমার মতো ছোট ছিলাম তখন আমার বাবাকেও এভাবে কাধে করে নিয়ে গেছিলাম। তখন আমার পিতা দোয়া করেছিলো যে তোমার ছেলেও তোমাকে এভাবে ভালোবাসবে, কাধেঁ করে নিয়ে যাবে। আমার বাবার দোয়া কবুল হয়েছে বেটা। তাই খুশিতে আমার কান্না চলে এসেছে।
কিতাবে বৰ্ণিত আছে আপনি আপনার পিতা মাতাকে যেরকম ভালোবাসবেন আপনার ছেলেমেয়েরাও আপনাকে অনুরূপ ভালোবাসবে। তাই প্ৰতিটি সন্তানের উচিত তার পিতা-মাতাকে যথেষ্ট সম্নান, শ্ৰদ্ধা, মায়া করা সেবাযত্ন করা। যার বিনিময়ে সেও পাবে। এককথায় যে যেমন করবে সে তেমন ফল পাবে।
0 Comments