কেউ যদি আপনাকে প্রশ্ন করে 👉আপনি কূপ বলতে কি বোঝেন? আপনি নিশ্চয় এটা বলবেন, ছোট্ট একটু জায়গা বৃত্তাকারে খনন করে গভীর গর্ত করাকেই লোকেরা কূপ বলে থাকে। হুম তাই তো! এটিকেই কূপ বলা হয়। প্রাচীন কাল থেকে এখন পর্যন্ত কুপের ব্যবহার চলে আসছে। প্রাচীন কালের মানুষেরা কূপ থেকে পানি উঠিয়ে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করতো।
আমরা সচরাচর দেখতে কূপের পানি সবসময় নিচের দিকে থাকে। তাই পানি তোলার আমরা দড়িতে বালতি বেঁধে কুপের মধ্যে দেই। তারপর সেই বালতি পানিতে পূর্ণ হয়ে গেলে আমরা দড়ির সাহায্যে টেনে তুলি। কিন্তু আপনি এটা কখনোও শুনেছেন কি? পৃথিবির বুকে এমন একটি কূপ আছে যার থেকে আপনা আপনিই পানি উপচে উপচে পড়ে। আর এতো পরিমাণ পানি কূপ থেকে উপচে পড়ে যে মনে হয় সেখানে বন্যার পানি গড়িয়ে যাচ্ছে।
সুপ্রিয় বন্ধুরা কি বিশ্বাস হচ্ছে না। অবিশ্বাসের তো কিছুই নেই বন্ধুরা। সত্যিই এরকম একটা কূপ রয়েছে। যেখান থেকে পানি উপচে উপচে পড়ে। অদ্ভুদ এই কূপটি সারা বিশ্বে 'ডাইনিদের কূপ' নামে পরিচিত। আর এই বিস্ময়কর কূপটি এস্তোনিয়ার 'তুহালা' গ্রামে অবস্থিত। ধারনা করা হয় আজ থেকে প্রায় ৩০০০ বছর আগে এই কূপটি খনন করা হয়। আমরা কূপের গভীরতা দেখি ২০, ৩০, ৪০ সর্বোচ্চ ৫০ ফুট। কিন্তু অবাক তথ্য হলো এই কূপটির গভীরতা হলো মাত্র ২.৫ ফুট। মাত্র ২.৫ ফুট গভীরতা থেকে থেকে এত পানি বের হয় সত্যিই অবিশ্বাস্য। তবে এই কূপ থেকে সারাবছরই কিন্তু পানি বের হয় না। মূলত বর্ষাকাল ও শীতকালে পানি বের হয়।
এই কূপকে কেন ডাইনীদের কূপ বলা হয় এ বিষয়ে লোককথা রয়েছে। সেখানকার স্থানীয় কিছু বাসিন্দার মতে, প্রতিবছর নির্দিষ্ট একটা সময়ে একদল ডাইনী এই কূপে গোসল করতে থাকে। আর গোসলের সময় তারা ঝগড়া করে। একে অপরের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এর ফলে পানি কূপ থেকে উপচে বের হয়ে আসে। আবার একদল বাসিন্দার মতে, রাতের বেলা তারা কূপ থেকে আগুনের গোলা উড়ে যেতে দেখেছে। বোঝাই যাচ্ছে সেখানকার মানুষ এখনো অজ্ঞ।আবার কেউ কেউ এটাকে সৃষ্টিকর্তার নিদর্শন বলে থাকে।
কিন্তু এই কূপ নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার শেষ নেই। তাদের গবেষণায় পাওয়া যায়, এই কূপের পানি উপচে পড়ে এ অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠনের কারনে। এ অঞ্চলের ভুগর্ভস্থে অনেক নদী রয়েছে। আর শীতকাল ও বর্ষাকালে এসব নদীর পানি বেড়ে যেয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই কূপ খননের সময় নদীর শাখার সাথে কূপের একটা সংযোগ হয়ে যায়। আর সংযোগের ফলেই নদীর পানি এখান দিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
বন্ধুরা বিজ্ঞান যাই ব্যাখ্যা দিক না কেন রহস্য কিন্তু একটা থেকেই যায়। সেই তিন হাজার বছর আগে, এত সুক্ষ্ণ ভাবে মাটির নিচে নদীর শাখার সাথে মিল রেখে কূপটি খনন করা হয়েছে এটা কিন্তু ভাববার বিষয়। নদী না দেখে মাত্র ২.৫ ফুট গভীর করে কিভাবে এতো পানি বের হয় এটা সত্যিই বিস্ময়কর।
0 Comments