হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কয়েকটি ঘটনা



একদিন মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) তার সাহাবাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “তোমাদের মধ্যে এমন কে আছ যে আজ রোযা রেখেছ?”

তখন হযরতে আবুবকর (রা) অত্যন্ত কোমল স্বরে বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ), আমি রোযা রেখেছি।”

রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, “এমন কেউ কি আছ যে, আজ কোন শাবাধারের সাথে গিয়ে জানাযার নামায পড়েছ?”

হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রা) বললেন, “ ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি এইমাত্ৰ একজনের জানাযায় অংশ নিয়ে এখানে এসেছি।”

রাসূলুল্লাহ (সা) আবার বললেন, “আচ্ছা, এমন ব্যক্তি কে আছ যে আজ কোন পীড়িতের (অসুস্থ ব্যক্তির) সেবা করেছো ?

তখন আবার হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রা) বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! আমি আজ এক পীড়িত ব্যক্তির সেবা করেছি।”

মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা) আবারও বললেন, “আজ কিছু দান করেছ, এমন ব্যক্তি এই মজলিসে কেউ আছ?”

আনন্দচিত্তে হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রা) বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমার এক অতিথিকে সামান্য কিছু অর্থ সাহায্য করতে পেরেছি।”

অৰ্থাৎ মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) যতগুলি নেক কাজ করার কথা জিজ্ঞাসা করেছেন, তার সবগুলিই আবু বকর (রা) সম্পন্ন করেছেন। তাই বিশ্বনবী (সা) বললেন, “একদিনে যিনি এতগুলো সৎকাজ করেছেন নিশ্চয় তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন।

আবু বকর (রা) এর সম্পৰ্কে হযরত উমার (রা) বলতেন, “ জগতে এমন কোন উত্তম কাজ নেই, যা হযরত আবুবকর (রা) সবার আগে সুসম্পন্ন না করেন। এটা মোটেও আমার অনুমান নয়, অভিজ্ঞতার কথা"।

একটি ঘটনা। হযরত উমার (রা) একজন অসহায়, অশীতিপর এক বৃদ্ধার অনাহারের কথা শুনে কিছু খাবার সামগ্ৰী নিয়ে সেই বৃদ্ধার বাড়ীতে গেল।

বাড়িতে উপস্থিত হয়েই উমার (রা) কে বৃদ্ধাটিকে খাবার খেতে বলল। বৃদ্ধা জানাল একটু আগেই একজন দয়ালু ব্যক্তি তাকে আহার করিয়ে গেছে।

সেদিনের মতো উমার (রা) ফিরে গেলেন। পরদিন তিনি আবার কিছু খাবার নিয়ে সেই বৃদ্ধার বাড়িতে গেলেন। বৃদ্ধা বলল যে আজকেও সেই দয়ালু ব্যক্তিটি তাকে আহার করিয়ে গেছে।

উমার (রা) ভাবতে লাগলেন কে এই দয়ালূ ব্যাক্তি, সে কোন ব্যক্তি যে তার আগেই এমন নিয়ম বেঁধে একে আহার করিয়ে যায়। উমার (রা) দয়ালু ব্যক্তিকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে গেলেন। 

উমার (রা) পরের দিন ভোরেই বৃদ্ধার বাড়ির দিকে রওনা দিলেন। পথ চলতে চলতে উমার (রা) শপথ করলেন, তিনিই আজকে বৃদ্ধাকে আগে আহার করাবেন। আর সেই ব্যক্তিকে আজ স্বচক্ষে দেখবেন।

বৃদ্ধার বাড়ি পৌছে যখনি তিনি গৃহমধ্যে ঢুকতে যাবেন তখনি হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) খাবার শূণ্য বাসন-পেয়ালা নিয়ে (রা) বের হয়ে আসলেন। উমার (রা) তাঁকে সালাম জানিয়ে বললেন, "বন্ধুবর’ আমিও এটাই অনুমান করেছিলাম"।

তখন হযরত আবু বকর (রা) মুচকি হাসি দিয়ে তার  সালামের উত্তর দিলেন। তারা পরস্পর মোছাফাহ করে বাড়ীর দিকে রওনা হলেন। তখন উমার বললেন, "আবুবকর (রা) পরবর্তী খলীফাদের বড় মুস্কিলে ফেলে গেলেন"।

হযরত আবুবকর ছিদ্দীক (রা) খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পরও কাপড়ের ব্যবসা করতেন। একদিন তিনি নতুন কিছু চাদরের একটি বোঝা নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন বিক্রি করার জন্য। পথে হযরত উমার (রা) এর সাথে দেখা হলো। উমার (রা) তাকে বললেন, “কোথায় চলছেন?”

আবু বকর (রা) উত্তরে বললেন, “বাজারে যাচ্ছি”। তখন হযরত উমার (রা) বুঝলেন, খলীফা হওয়ার আগে আবু বকর (রা) যে কাপড়ের ব্যবসা করে পরিবারের ভরণ পোষণের করতেন তা এখনও ছাড়েননি। উমার (রা) বললেন, “ব্যবসায় মগ্ন থাকলে খেলাফাতের কাজ চলবে কেমন করে?”

উত্তরে হযরত আবু বকর (রা) বললেন, “ব্যবসা না করলে পরিবার-পরিজনদের ভরণ পোষণ করব কি দিয়ে?” তখন হযরত উমার (রা) “বাইতুল মালের দায়িত্বে থাকা আবু উবাইদা (রা) এর কাছে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। কেননা তিনি হযরত আবু বকর (রা) এর জন্য নিৰ্দিষ্ট বেতন করে দিবেন। উমার এর প্ৰস্তাবে আবু বকর র একটু ইতস্তত বোধ করছিল। এটা দেখে উমার র তাকে জোড় কর আবু উবায়দার নিকট নিয়ে গেলেন।

বায়তুল মালে উপস্থিত হওয়ার পর উমার র আবু উবায়দাকে বিস্তারত বললেন। তারপর তার আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য মুহাজিরদের সমপরমাণ ভাতা  খলীফা হযরত আবু বকরের জন্য নির্দিষ্ট হলো। কিন্তু আবু বকর রা গোপনে এ ভাতা নিতে অস্বীকৃতি জানালেন। তিনি এ কথাটি জনসাধারণ্যে প্রকাশ করার প্রয়োজন মনে করলেন।

তাই আবু বকর (রা) মদীনার সবাইকে ডেকে তার বেতন নেওয়া ঠিক হবে কিনা না এ বিষয়ে সবার মতামত জানতে চাইলেন। তিনি বললেন, “তোমরা সবাই জানো যে, ব্যবসা দ্বারা আমি মুলত জীবিকা নির্বাহ করি। এখন তোমাদের খলীফা হবার ফলে সারাটা দিনই খিলাফতের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়, ব্যবসা দেখাশুনা করতে পারিনা। সে জন্য বাইতুল মাল থেকে আমার ভাতা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।”

 এ বিষয়ে আপনাদের সকলের মতামত জানতে চাই। উপস্থিত সবাই বেতন নেয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করল। হযরত আবু বকর (রা) পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য যেটুকু ভাতা গ্ৰহন করতেন তা জনসাধারণের কাছ থেকে এই ভাবে মঞ্জুর করিয়ে নেন।

আবু বকর সিদ্দিক (রা) ইন্তেকালের পূৰ্ব মুহূৰ্তে তার কন্যা হযরত আয়িশাকে (রা) বললেন যে তার ইন্তেকালের পর প্ৰয়োজনাৰ্থে যে জিনিসপত্ৰ বাইতুল মাল থেকে এনেছিলেন সেসব জিনিস তার পরবর্তী খলীফার নিকট পাঠিয়ে দিতে।”

হযরত আবু বকর (রা) ইন্তেকালের পর কোন টাকা পয়সাই তাঁর নিকট পাওয়া যায়নি। খাওয়ার জন্য একটি পেয়ালা, একটি চাদর, বিশ্ৰামের জন্য একটি বিছানা ও একটি দুগ্ধবতী উট তাঁর সম্পদ ছিল।

এগুলো তার নির্দেশ মোতাবেক মা আয়েশা (রা) পরবৰ্তী খলীফা হযরত উমারের (রা) কাছে পাঠিয়ে দিলেন। খলীফা উমার (রা) এসব দেখে অশ্রুসজল চোখে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বললেন, “আল্লাহ আবু বকরের (রা) উপর রহম করুন। তিনি তাঁর পরবর্তী খলীফাদের বড় মুস্কিলে ফেলে গেলেন"।


সাহাবীদের আরো জীবনী গল্প পড়ুন নিচের লিংকে ক্লিক করে

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/2021/10/blog-post_66.html?m=1


ইসলামিক সব ধরনের গল্প পড়তে নিচের দেওয়া লিংকে ক্লিক করুন।

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/?m=1


শিক্ষনীয় গল্প পড়ুন নিচের লিংকে ক্লিক করে 

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/2021/10/blog-post_88.html?m=1




Post a Comment

0 Comments