দেশের অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পপতি আমজাদ চৌধুরী দীর্ঘ ৩০ বছর সততা, পরিশ্রমের সহিত ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন। সততা আর পরিশ্রমই তো মানুষকে গুণান্বিত করে। এজন্য আজমাদ চৌধুরী দেশজোড়া খ্যাতি সুনাম কুড়িয়েছেন। অনেক বড় একটি কোম্পানির মালিক তিনি। যেখান থেকে আর্ত ও মানবতার কল্যাণেও সেবা করা করা হয়।
কিন্তু সুখ কি আর চিরদিন থাকে। সততাও তো ধরে রাখা খুবই কষ্টকর। কোম্পানীর প্রধান কর্মচারী গুলো একসময় অসৎ হয়ে গেল। দুর্ণীতিতে ছেয়ে গেল কোম্পানী চারদিক। এতে কোম্পানীর লোকসান হতে লাগলো। একসময় বড় পর্যায়ের লোকসানে কোম্পানী এখন তুজ্ঞে।
আমজাদ সাহেব বুঝলেন, তার বিশ্বস্ত কিছু কর্মচারীর অবহেলা ও দুর্ণীতির কারনে আজকে কোম্পানির এই দুরাবস্থা। হায়রে! অক্লান্ত পরিশ্রম আর তিলে তিলে গড়া কোম্পানি এভাবে ধ্বংসের পথে! এটা তিনি মেনে নিতে পারলেন না। তার বিশ্বস্ত কর্মচারী বৃন্দ এভাবে বেইমানী করবে!!! হতাশা হয়ে গেলেন। সারাদিন দুশ্চিন্তা করতে লাগলেন।
এদিকে তার স্ত্রী বিষয়টি জানতে পারে। স্বামীর এমন বিপর্যয় মুহূর্তে তিনিও নিশ্চুপ। তবে থেমে থাকলেন না। যেভাবেই হোক কোম্পানীর আর কোনো ক্ষতি হতে দেয়া যাবে না। কি করা যায় তাই ভাবতে লাগলেন। অবশেষে তৈরি করে ফেললেন একটি পরিকল্পনা। স্বামি আমজাদ সাহেবকে পরিকল্পনাটি ঠিকঠাক মতো বুঝিয়ে দিলেন।
স্ত্রীর কথায় পরদিন আমজাদ সাহেব অফিসের সামনে একটি নোটিশ টানিয়ে দিলেন। তখন কোম্পানির কর্মচারীবৃন্দ অফিসে প্রবেশের সময় নোটিশটি দেখতে পেল। নোটিশ পড়ে সবাই একটু শোকাহত হলো। কেননা এতে লেখা আছে, 'যার কারনে আমাদের কোম্পানীর এই বিপর্যয় তিনি আজ গতকাল রাতে মারা গেছেন। আমরা যেখানে সেমিনার করি সেখানে একটি কফিনে তার লাশ রাখা হয়েছে। আর এই নির্দেশ দেয়া হচ্ছে অফিসের প্রধান কর্মচারীরা অবশ্যই মৃত ব্যক্তির লাশ দেখবে ও তার সম্পর্কে সুন্দর আলোচনা করবে''।
অফিসের সবাই তাদের সহকর্মীর মত্যুর খবর শুনে খুব সবাই দুঃখ পেল। তারা ভাবতে লাগলো যে কোন ব্যক্তি সে যার কারনে কোম্পানি আজ বিশাল ক্ষতির সম্মুখে? সবাই কৌতুহলী হয়ে পড়ল মৃত সহকর্মীকে দেখার জন্য। নোটিশের নির্দেশ মোতাবেক, লাশ দেখার জন্য তারা দ্রুত গতিতে সেমিনার রুমে চলে গেল।
কাফনের কাপড় সরিয়ে সবাই লাশ দেখে তাজ্জব বনে যাচ্ছে। বিস্মিত, অবাক হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ তো উল্টো আবার রাগে ফুসছে আর কানাকানি করে বলছে, "এটা কি ধরনের লাশ! অফিসের বস কি পাগল হয়ে গেছেন! আবার কেউ এই কথার রেশ ধরে বলছে, "তাই মনে হয় ভাই, কোম্পানির লোকসানে স্যারের মাথাটা নষ্ট হয়ে গেছে।
আসলে কফিনে কোন ব্যক্তির লাশ ছিল না। ছিল একটি আয়না। যে ব্যক্তি লাশ দেখার জন্য কফিনের ভেতর উকি দিয়েছিল সেই নিজের চেহারাই দেখতে পাচ্ছিলো। এজন্যই সবাই এমন করছিল। যাই হোক এর রহস্য জানার জন্য সবাই চেয়ারে বসে পড়ল। তাদের বসের অপক্ষায় রইল। কিছুক্ষণ পর আমজাদ সাহেব সেখানে উপস্থিত হলেন।
স্যারের উপস্থিতিতে সবাই বলতে লাগলো যে কেন স্যার তাদের সাথে এমন তামাশা করলেন। তখন তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন, " এটা তো একটা সিম্পল ব্যাপার! আগে বলুন, আপনারা কি লাশ দেখার স্থানে আয়নায় নিজের চেহারা দেখেছেন? সবাই সমস্বরে হ্যা বললো।
আমজাদ সাহেব বললেন, "দ্যাটস এনাফ। আপনারা সবাই এখন মৃত। তাই আজ থেকে আপনাদের আর কাজ করার সুযোগ থাকলো না। একথা শুনে সবাই গোলক ধাঁধায় পড়ে কানাকানি করতে লাগলো। তাদের স্যার কি বোঝাতে চাইছে কেউ বুঝতে পারলো না।
তখন আমজাদ সাহেব ক্লিয়ারলি বললেন , "আপনারা নিশ্চয়ই নোটিশটা পড়েই এখানে এসেছেন। সবাই হ্যা বলল। নোটিশে লেখা ছিল যার কারনে কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্থ তিনি মারা গেছেন। আপনারা নিজের লাশও দেখে ফেলেছেন। তো আপনারা সবাই মারা গেছেন।
এখন সবাই আয়নার কাহীনি বুঝতে পারলো যে আসলে তারাই মৃত। তাদের দুর্ণীতির কারনে আজ কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্থ। সবাই স্যারের নিকট পুর্বের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইল। কিন্তু আমজাদ সাহেব তাদের বরখাস্ত করে আবার নতুন করে কোম্পনির অগ্রযাত্রা শুরু করলেন।
0 Comments