বহুকাল আগের ঘটনা। একদা আরব দেশে বাস করত এক কৃপণ ব্যক্তি। কৃপণ হলেও তার ধন-সম্পত্তি ছিল প্রচুর।
তবে এই কৃপণতার জন্যে একদিন সে লজ্জিত হয়েছিল। আর এটাই তার জন্যে অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছিল। হারাতে হয়েছিল অনেক দিরহাম। ঘটনাটি ছিল এরকম:-
একদিন সে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। তার নিকটে একটি টাকার থলে ছিল। অজান্তেই থলেটি রাস্তার পড়ে গেল।
বাড়ি পৌছে সে জামার পকেটে থলেটি খুজতে লাগল, কিন্তু পেল না। কোথাও খুজে না পেয়ে টাকার জন্য আফসোস করতে লাগল।
এদিকে পথের ধারে এক গরিব ব্যক্তি তার থলেটি দেখতে পেয়ে তুলে নিল। গরিব হলে কি হবে সে ছিল খুবই সৎ, ধার্মিক ও নির্লোভ।
তাই থলেটির লোভ সে করলো না। বরং থলেটির প্রকৃত মালিককে খুজে বের করবে বলে মনস্থ করল। কিন্তু এটা তার জন্য সহজ ছিল না।
সৎ উদ্দেশ্য পুরণে মহান আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই সাহায্য করেন। বিভিন্ন প্রান্তে খোজাখুজির পর থলের প্রকৃত মালিক ঐ কৃপণ ধনী ব্যক্তির সন্ধান পেল। তার নিকটে যেয়ে থলেটি ফেরত দিল।
এদিকে থলেটি পেয়ে কৃপণ ব্যক্তি খুশিতে আটখানা। থলে ফিরে পাওয়ার আশাই সে ছেড়েই দিয়েছিল। আনন্দ আর ধরে কে!
অত্যধিক খুশিতে কৃপণটি তাকে কিছু বখশিস দিতে চাইল। কিন্তু পরক্ষনেই চিন্তা পাল্টে গেল। সে মনে ভাবলো যে কি বোকামী করতে যাচ্ছে সে। বখশিস দেওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে সে একটি ধূর্ত পরিকল্পনা করল।
লোকটিকে রুক্ষ্ণ কন্ঠে বললো, থলেতে তো ১০২০ দিরহাম ছিল, কিন্তু এখন ১০০০ দিরহাম দেখতে পাচ্ছি। আপনি যেহেতু ২০ দিরহাম সরিয়েছেন, তাই কোন বখশিস দিতে পারবো না। আপনি এখন আসতে পারেন।
তার কথা শুনে নিঃস্ব লোকটি ব্যথিত হলো। উপকারের প্রতিদানে এভাবে সে অপমানিত হবে ভাবতেও পারছে না। তাই সে কাযীর দরবারে গেল বিচার নিয়ে।
কাযীর নিকট সব খুলে বললো।
কাযী কৃপণ ব্যক্তিকে ডেকে পাঠালে সে উপস্থিত হলো।
কাযী সাহেব কৃপণকে জিজ্ঞাসা করলেন
- আপনার থলেতে মোট কত টাকা ছিল?
- ১০২০ দিরহাম।
- এখন কত টাকা আছে?
- ১০০০ দিরহাম।
বিস্ময়ে কাযী বললেন, "তারমানে আপনি বলতে চাচ্ছেন, বাকী ২০ দিরহাম এই লোকটি নিয়েছে। কৃপণ লোকটি - জ্বী জনাব, সত্য।
বিচারক এবার নিঃস্ব লোকটিকে বললেন, " আপনি কি সত্যি ২০ দিরহাম নিয়েছেন?
একথা শুনে নিঃস্ব লোকটি বলল, " হুজুর একটু ভেবে দেখুন, তার টাকা নেওয়ার কোনো ইচ্ছা যদি আমার থাকতো, তাহলে অবশ্যই সবগুলি টাকা নিয়ে নিতাম।
আর মুল কথা এতো কষ্ট করে টাকা ফেরত দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। আমি মনে করি, এটা আমার জন্য পরিক্ষা ছিল। আল্লাহ তা'আলা আমাকে পরিক্ষা করছেন। ইনশাআল্লাহ আমি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, আমি তার থলে থেকে এক দিরহামও সরাই নি।
কথায় আছে, রতনে রতন চিনে, লোকটি যে একজন সৎ, নির্লোভ ও ধার্মিক ব্যক্তি তা ন্যায়বিচারক কাযী বুঝতে পারলেন। কেননা তার কথার মধ্যে সত্যতা প্রকাশ পাচ্ছে।
উভয়ের কথা শোনা শেষ। এবার রায়ের পালা। বিজ্ঞ কাযী কৃপণ লোকটিকে বললেন, "দেখুন উভয়ের বক্তব্য শুনলাম। আপনি বলছেন থলেতে ১০২০ দিরহাম ছিল। আর উনি যে থলে পেয়েছেন সেখানে ১০০০ দিরহাম আছে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে এটি আপনার থলি নয়। সুতরাং, আপনি তাকে থলেটি ফেরত দিন।
এবার কাযী নিঃস্ব লোকটিকে বললেন, "আপনি যদি ১ বছরের মধ্যে এটির প্রকৃত মালিককে খুজে পান তাহলে তাকে ফেরত দিবেন। আর যদি না পান, তাহলে আপনিই নিজেই ওটা ব্যবহার করবেন।
কাযী সাহেবের রায় শুনে কৃপনের মাথায় হাত। সে এমন খপ্পরে পড়বে ভাবতে পারে নি। উপায়ন্তর না দেখে তার মিথ্যা বলার দোষ স্বীকার করলো এবং পুনরায় থলে ফেরত পাওয়ার আবেদন করলো। কিন্তু কাযী সাহেব তার আর কোনো কথাই শুনলেন না।
গল্প থেকে শিক্ষা : সুপ্রিয় পাঠকমন্ডলী, কৃপণতা অত্যন্ত মন্দ স্বভাব। এটা মানবজীবনের একটি বড় অভিশাপ। এর দ্বারা সম্পদ বাড়ে না বরং আরো কমে। আর আল্লাহ ও তার রাসূল (সাঃ) কৃপণ ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। তাই আমরা অবশ্যই কৃপণতা পরিহার করে দানশীল ও মিতব্যয়ী হবো।
0 Comments