Bangla golpo: বন্ধুর বউয়ের সাথে প্রেম

Bangla golpo: বন্ধুর বউয়ের সাথে প্রেম


এলাকায় এক যুবকের সাথে এক যুবতীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কিন্তু তারা দেখা করার করার তেমন সুযোগ পাচ্ছে না।

যুবকটি ভাবতে লাগলো, কিভাবে সে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে পারবে। উপায় একটা বের করে ফেললো। বন্ধু শাহিনকে দেখা করতে বললো।

সে বন্ধু শাহিনকে বলল, "আরে মামা! তোরে তো বলিই নাই, আমাদের মসজিদের যে ঈমাম সাহেব আছে না! তার বউয়ের সাথে তো আমার প্রেম হয়ে গেছে।

শাহিন বললো, "কস কি বন্ধু! এটা  কিভাবে হলো?

যুবকটি বলল, আরে মামা! সে অনেক কথা, অন্য একদিন শুনিস। এখন আমারে একটা হেল্প করা লাগবো।

শাহিন বললো, "কি হেল্প রে মামা! বলে ফেল। তরে যেকোনো বিষয়ে হেল্প করতে এ বান্দা হাজির। তবে মামা হালকা ট্রিটে চলবে না।

যুবকটি বলল, "তেমন কিছু নারে। আসলে মামা, আমিতো ঈমাম সাহেবের স্ত্রীর সাথে প্রেম করি। কিন্তু এই ইমাম সাহেব, প্রতিদিন নামাজ পড়িয়ে দ্রুত বাড়ি চলে যায়। তাই তার স্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাচ্ছি না।

তুই একটা কাজ কর মামা, তুই প্রতিদিন নামাজ শেষে ইমাম সাহেব কে বিভিন্ন বিষয়ে জটিল জটিল মাসআলা জিজ্ঞাসা করবি।

শাহিন বললো, "হুম মামা বুঝলাম। কিন্তু মাসআলা জিজ্ঞাসা করে লাভটা কি? আমি এগুলো জেনে কি করবো!

যুবকটি বলল, "আর,  বলদ বুঝস না! এতে ইমাম সাহেবের মাস আলার উত্তর দিতে অনেক সময় লেগে যাবে। বাড়ি ফিরতে লেট হবে। এর মধ্যেই আমি তার স্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে ফেলবো।

শাহিন বলল, ওররেরেরে মামা! তর মাথায় তো অনেক বুদ্ধি। আচ্ছা যা আমি রাজি। আজ থেকেই শুরু হলো।

যুবকটি বললোঃ থ্যাংক্স মামা, ইউ আর মাই বেস্টু। তাই হলো। যুবকটির বন্ধু যে ইতিপূর্বে কখনো মসজিদে যায় নি, আজ থেকে নিয়মিত মসজিদে যেতে লাগলো।

লাইব্রেরী থেকে বড় একটি মাসআলার বই কিনলো। এরপর প্রতিদিন জটিল মাসআলা গুলি খাতায় লিখে  ইমাম সাহেবকে দেখাতে লাগলো।

এদিকে সহজ-সরল, অত্যন্ত ধার্মিক ইমাম সাহেব দীর্ঘ সময় ব্যয় করে মাসআলার উত্তর দিতো। এভাবে কিছুদিন চলে গেল।

আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেছেন, নিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। কিছুদিন নামাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সাহচার্য লাভ করে শাহিনের অন্তর হেদায়েতের আলোয় উদ্ভাসিত হলো।

সে বুঝতে পারল, এটা তার মারাত্নক অন্যায় ও মহাপাপ হচ্ছে। আল্লাহর ভয়ে তার অন্তরাত্না কেপে উঠলো।

তার বিবেক বাধা দিল সহজ- সরল ইমাম সাহেবকে আর ধোঁকা না দিতে। নাহ, আর না। এবার সত্যিটা প্রকাশ করতে হবে।

তাই একদিন নামাজ শেষে ইমাম সাহেবকে বললো, "হুজুর আমি একটা মস্ত বড় অন্যায় করে ফেলেছি। তাই আপনার নিকটে ক্ষমা চাচ্ছি। 

ইমাম সাহেব বললেন, "তুমি এমন কি অন্যায় করেছো যে এভাবে মাফ চাচ্ছো।

শাহিন বললো, "হুজুর, এতোদিন আমি মাসআলা জেনে নেওয়ার জন্য আপনাকে জিজ্ঞাসা করতাম না, বরং আপনাকে ধোঁকা দেওয়াই ছিলো আমার মুখ্য উদ্দেশ্য"।

ইমাম বললেন, "আমিতো কিছুই বুঝতে পারছি না। তুমি সবকিছু ক্লিয়ার করে বলো"।

শাহিন তখন বললো, "আসলে হুজুর, আমার এক বন্ধু আর আপনার স্ত্রী পরস্পরকে ভালোবাসে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ে দ্রুত বাসায় চলে যান। এজন্য আমার বন্ধু আপনার স্ত্রীর সাথে খারাপ কিছু করার সুযোগ পায় না"।

তাই আমরা প্লান করে আপনাকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করে এখানে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখতাম, যাতে তারা সুযোগ পায়"।

শাহিনের কথা শুনে ইমাম সাহেব আশ্চার্যান্বিত হয়ে গেল। চরম মাত্রায় অবাক হয়ে বললেন, "আরে শাহীন, কি বলছো এসব! আমিতো এখনো বিয়েই করি নি, আমার পরিবার এখনো আমাকে বিয়ে করায় নি। তাহলে আমার কোন স্ত্রীর সাথে তোমার বন্ধু এসব করছে।

ইমাম সাহেবের কথা শুনে শাফিনও অবাক। গভীর চিন্তায় পড়ে গেল। আসলেই তো, ইমাম সাহেব যদি বিয়েই না করে তাহলে স্ত্রী আসবে কোথা থেকে!

তার মানে, বন্ধু তাকে মিথ্যা বলেছে। কিন্তু প্রেমতো অবশ্যই কারো সাথে করছে। এরপর শাহিন তার বন্ধুর খোজ খবর নিলো।

পরিশেষে এটা জানা গেল শাহীনের স্ত্রী ও তার বন্ধু পরস্পরকে ভালোবাসে। আর তাকে বোকা মুরগি বানিয়ে প্রতিদিন সাক্ষাৎ করতো।

এই যে সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ! কি বুঝলেন!!কি কাণ্ডই না ঘটল!! কিছু টের পেলেনতো না কি! গুনাহের কাজে সাহায্য- সহযোগীতা করার ফলাফল কত ভয়াবহ হতে পারে।।



Post a Comment

0 Comments