পড়ুন : প্ৰজাবৎসল উমার (রা) একটি ঘটনা পড়ি


পৃথিবীর বুকে আজ পৰ্যন্ত যত শাসক এসেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি এলাকাজুড়ে শাসন করছেন হযরত উমার (রা)। বলা হয়, তিনি ছিলেন অৰ্ধ দুনিয়ার শাসক। এত বড় শাসক ও ক্ষমতাশীল হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন সৰ্বগুণে গুনান্বিত।

বিশেষ করে তিনি ছিলেন খুবই প্ৰজাবৎসল। প্ৰজাসাধারণের খেদমত করাই ছিল তার অন্যতম গুণ।দিনরাত রাষ্ট্ৰীয় কাজ করেও তিনি স্বস্তি পেতেন না। প্ৰজাদের সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনা নিয়ে তিনি সবসময় চিন্তাক্লিষ্ট থাকতেন।

আহারে! গরিব-অসহায় কেউ কোথাও কষ্ট পাচ্ছে কিনা, কোথাও কেউ অভাব- অনটনে দিন যাপন করছে কিনা এ নিয়ে তার চিন্তা ভাবনার শেষ ছিল না। প্ৰজাসাধারণের চিন্তায় রাতেও তিনি ঘুমাতেন না। সারাদিন রাষ্ট্ৰের কাজে থাকায় প্ৰজাদের অবস্থা সম্পৰ্কে অবগত হতে পারতেন না।

তাই রাতের বেলা ঘোর অন্ধকারে একাকি বেরিয়ে পড়তেন প্ৰজাদের অবস্থা নিজ চোখে পৰ্যবেক্ষন করার জন্য। মদিনার সব অলি-গলি ঘুরে দেখতেন। কোথাও কোনো অসহায় লোকের দেখা পেলে/ কথা শুনলে সেই রাতেই যত দ্ৰুত সম্ভব তাদের সাহায্য করতেন।


একদিন রাতে তিনি এক অসহায় অভুক্ত মা ও শিশুদেরকে কিভাবে সাহায্য করেছিলেন সেই ঘটনাটি আলোচনা করছি।


তখন ছিল মধ্যরাত। চারদিকে ঘোর অন্ধকার। কোথাও আলো নেই। রাস্তাঘাটে নেই কোন জনমানবের চিহ্ন। সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

সেই সময়ে মদিনার রাস্তাঘাট, অলি-গলি দিয়ে হাটছেন প্ৰজাবৎসল খলিফা উমার (রা)। উদ্দেশ্য তার প্ৰজাদের খোজখবর নেয়া।

প্ৰজাসাধারণ কিভাবে আছে, কেউ কোথাও অসহায় বিপদাপন্ন অবস্থায় আছে কিনা তা নিজ চোখে পৰ্যবেক্ষন করা।

পথ চলতে চলতে একসময় একটি দৃশ্য দেখে তার চোখ আটকে গেল। তিনি দুরের একটি কুটির হতে আলো দেখতে পেলেন।

এত গভীর রাতে আলো দেখে তার মনে কৌতুহল সৃষ্টি হলো। তাই তিনি কুটিরের নিকটে গেলেন । সেখানে দেখতে পেলেন, একজন মহিলা চুলোয় হাড়ি বসিয়ে কিছু একটা জ্বাল দিচ্ছে। আর মহিলার পাশে কয়েকটি শিশু করুণভাবে কান্না করতেছে। বিষয়টি তার নিকটে স্বাভাবিক লাগলো না। তাই এটি পুরোপুরি বোঝার অপেক্ষা করতে লাগলেন। অনেকসময় হয়ে গেল।

একদিকে মহিলাটির রান্নাও শেষ হচ্ছে না। অপরদিকে তার ছেলেমেয়ে গুলো কাদতে কাদতে ঘুমিয়ে পড়ল। 

উমার রা আর লুকিয়ে থাকতে পারলেন না। তার মনটা ব্যকুল হয়ে উঠলো। তাই এগিয়ে গেলেন সেখানে। তার মহিলাটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, " মা! আমি অনেকসময় ধরে দেখছি আপনি হাড়িতে যেন কি জ্বাল দিচ্ছেন। কিন্তু আপনার তো রান্না শেষ হচ্ছে না। এদিকে আপনার ছেলে মেয়েরা কাঁদতে কাদঁতে ঘুমিয়ে গেছে। আপনি এতো রাতে কি জ্বাল দিচ্ছেন? আর আপনার ছেলে-মেয়েরা কাদঁতেছে কেন?

এতো রাতে মহিলাটি তাকে দেখে একটু অবাক হলো। অপরিচিত লোক দেখে অবাক হওয়ারি কথা। মহিলাটি খলিফাকে চিনত না।

তার কথা শুনে তার চোখে পানি চলে এলো। কান্নাজড়িত কন্ঠে বললো, "আপনি কে আমি জানি না। জিজ্ঞাসা করছেন তাই বলছি, ঘরে কোনো খাবার না থাকায় আমরা কয়েকদিন ধরে অভুক্ত আছি। খুদার জ্বালা সহতে না পেরে ওরা কান্না করছিল। ওদের কান্না আমি আর সহ্য করতে পারছিলাম না।

কিন্তু কি করব বাবা, আমি যে নিরুপায়। কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই ওদের কান্না থামানোর জন্য আমি মিছেমিছি পানি আর পাথর জ্বাল দিচ্ছি। যাতে ওরা খাবারের জন্য অপেক্ষা করতে করতে রাতের জন্য হলেও ঘুমিয়ে পড়ে। পেটে ক্ষুধা থাকলে কি আর ঘুম আসে! 

এমন কথা শুনে উমার (রা) মন ব্যথিত হয়ে উঠলো। তিনি বললেন, কেন মা আপনার ঘরে খাবার নেই? 

মহিলা বললেন, " বাবা, আমি খুব অসহায় দরিদ্ৰ মহিলা। তেমন আত্নীয় স্বজন নেই, যারা একটু সাহায্য করবে। আমি নিজেও তেমন রোজগার করতে পারি না। তাই কিছুদিন হলো খাদ্য-সামগ্ৰী কিনতেও পারছি না। তাই না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।

অসহায় মহিলাটির হৃদয়বিদারক কথা শুনে উমার (রা) এর অন্তরাত্না কেপে উঠল। এমন করুণ অবস্থা দেখে তার দুচোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। তার হৃদয়তন্ত্ৰি যেন ছিড়ে যাচ্ছিল। আহা ! ছোট ছোট অবুঝ সন্তানেরা না খেয়ে আছে।

তিনি মহিলাটিকে বললেন, " আপনি আর কোনো চিন্তা করবেন না মা। আজ এখন থেকে আপনাদের আর অভুক্ত অবস্হায় থাকতে হবে না। আপনি একটু অপেক্ষা করুন। আমি এখনি আসতেছি"।

এক ছুটে চলে এলেন বায়তুল মালের কোষাগারে। তারপর আসলামাকে ডেকে তুলে আটা ও অন্যান্য প্ৰয়োজনীয়খাদ্যসামগ্ৰী দিয়ে একটি বোঝা বাধলেন। ভৃত্যু আসলামার বুঝতে  পারল তার মণিব কাউকে সাহায্য করার জন্য এরুপ করছে। তাই বাঁধা শেষে বোঝাটি নিজের কাধেঁ নিতে চাইলেন। কিন্তু উমার (রা) রাজি হলেন না তিনি নিজের কাধে এটি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে আসলামাকে জানাল। 

উমার (রা) বোঝাটি কাঁধে নিয়ে এক ছুটে সেই মহিলার তাবুতে এসে পড়লেন। তারপর আটা বের করে মহিলাকে রুটি বানাতে বললেন। মহিলাটি রুটি বানাতে লাগলো। আর উমার (রা) নিজেই রুটি সেকতে লাগলেন।

তারপর রুটি ও হালুয়া দিয়ে সন্তানগুলিকে তৃপ্তি সহকারে খাওয়ালেন। এবার সবার মুখে পবিত্ৰ হাসি ফুটে উঠল। তাদের হৃদয় সীমাহীন তৃপ্তিতে ভরে গেল। আর অবুঝ অভুক্ত শিশু ও তাদের মায়ের মুখে খাবার তুলে দিতে পেরে উমার (রা) এর চোখেমুখে বেহেশতী আভা ফুটে উঠলো। সবাই মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করলেন।

অৰ্ধ দুনিয়ার শাসক হযরত উমার (রা) এমনই প্ৰজাবৎসল ছিলেন। তার জীবনীতে এরকম ঘটনা আরো অনেক রয়েছে। যা দুনিয়ার সকল মানুষের জন্য অনুকরণীয়।


 ইসলামিক গল্প পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/2021/10/blog-post_67.html?m=1


শিক্ষনীয় গল্প পড়ুন নিচের লিংকে ক্লিক করে 

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/2021/10/blog-post_88.html?m=1


সাহাবীদের জীবনীতে শিক্ষনীয় ঘটনা পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/2021/10/blog-post_66.html?m=1


Post a Comment

0 Comments