ইরাকের রাজধানী বাগদাদ। এই বাগদাদ শহরের কোনো এক মসজিদের ইমাম ছিল খুব পরহেজগার, তাকওয়াবান ও দ্বীনের খেদমতগার। এসব সৎ গুনাবলী দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি তার সুন্দরী, রুপসী ও পৰ্দাশীল কন্যাকে ইমামের নিকট বিবাহ দেন।
বিবাহের পর তাদের দাম্পত্য জিবন খুব সুখেই কাটতেছিল। কিন্তু হঠাৎ ঘটে গেল এক বিপত্তি। সেই মহল্লায় বাস করত এক মাস্তান যুবক। সে মানুষকে অন্যায় ভাবে অত্যাচার-নিপীড়ন করত। সে যা বলত লোকজন তাই করতে বাধ্য হতো। এক কথায় সবাই তাকে যমের মতো ভয় পায়।
ঘটনাচক্ৰে মাস্তান যুবকটি একদিন সেই ইমাম সাহেবের স্ত্ৰীকে বেপৰ্দা অবস্থায় দেখে ফেলে। এতো সুন্দর ও আকৰ্ষনীয়া চেহারা দেখে সে মহিলাটির উপর ভীষণ আসক্ত হয়ে পড়ল। তার ভেতরের কালসাপ জেগে উঠলো। তাই যুবকটি ইমামের স্ত্ৰীকে বিরক্ত করতে লাগল। কিন্তু মহিলাটি এসবে পাত্তা দিতো না।
একদিন যুবকটি ইমাম সাহেবের বাড়িতে প্ৰবেশ করে মহিলাকে ডাকতে লাগল। মহিলা বাইরে বেরিয়ে এলে যুবকটি বলল, "হে সুন্দরী মহিলা! আপনি অনেক রুপবতী ও আকৰ্ষনীয়া। আমি আপনার প্ৰতি খুব দুৰ্বল হয়ে পড়েছি। তাই আপনাকে আমার সাথে নিৰ্জনে কিছুটা সময় কাটানোর প্ৰস্তাব দিচ্ছি। আপনি কি আমার প্ৰস্তাবে রাজি আছেন?
যুবকটির কুপ্ৰস্তাব শুনে মহিলাটি খুব ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি যুবকটি সম্পৰ্কে জানত। যে কোনো সময় যুবকটি তার ক্ষতি করতে পারে। তবুও তিনি সাহস সঞ্চার করে বললেন, আমি এখন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। আপনাকে আগামীকাল আমার মতামত জানাবো।
দুশ্চিন্তায় তার সারাদিন পার হলো। রাতে ইমাম সাহেব বাড়ি ফিরলে আজকে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা তাকে বললেন। সব শুনে ইমাম সাহেব একটু চিন্তা-ভাবনা করে একটা উপায় বের করলেন। ইমাম সাহেব বললেন, "আমি তোমাকে যা শিখিয়ে দিচ্ছি তুমি আগামীকাল যুবকটিকে তাই বলবে। তারপর ইমাম সাহেব তাকে একটি প্লান শিখিয়ে দিলেন।
পরদিন যুবকটি আবার এলো তার মতামত জানার জন্য। তখন তিনি বললেন, "আমি এক শৰ্তে আপনার প্ৰস্তাবে রাজি আছি। যুবকটি কি সেই শৰ্ত তা জানতে চাইল। তখন তিনি বললেন, "আপনাকে একটানা চল্লিশ দিন আমার স্বামীর মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করতে হবে। যদি শৰ্তে রাজি থাকেন তাহলে আজ থেকেই মসজিদে যেতে হবে।
যুবকটি তার কথা শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। হাসি থামিয়ে বলল, " আরে এতো একদম সহজ শৰ্ত! আপনি যদি এর চেয়ে কঠিন শৰ্ত আমাকে দিতেন, আমি অবশ্যই পালন করতাম। আমি আপনার শৰ্ত পূরণে রাজি আছি।
একথা বলে যুবকটি তার বাড়িতে চলে এলো। তারপর ওযু ও পাক-পবিত্ৰতা অবলম্বন করে মসজিদে নামাজ পড়তে গেল। নামাজীরা সবাই তাকে দেখে অবাক হয়ে গেল। মসজিদের ইমাম সাহেব তাকে স্বাগত জানালেন। নামাজ শেষে ইমাম সাহেব তার জন্য দোয়া করলেন, হে আল্লাহ তুমি অতি মহান ও ক্ষমাশীল। একমাত্ৰ হেদায়েত দানকারী, পথ প্ৰদৰ্শনের তো তুমিই মালিক। এক পথহারা মাস্তান যুবক তোমার মসজিদে এসেছে, দয়া করে তাকে কবুল করে নাও।
শৰ্ত পূরণ করতে যুবকটি জামাতের সাথেই প্ৰতি ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে লাগল। এভাবে চল্লিশ দিন কেটে গেল। শৰ্ত পুরণ তো হলো। যুবকটির খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু সে ইমাম সাহেবকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। ইমাম সাহেব তার এমন আচরণ সম্পৰ্কে জানতে চাইলেন।
যুবকটি তখন বলল, "হুজুর আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি প্ৰথমাবস্হায় একটা খারাপ উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্যে মসজিদে আসতাম। প্ৰতিদিন আপনাদের সাথে নামাজ আদায় করতে করতে সত্যিই আমার মন দেলের পরিবৰ্তন ঘটতে লাগল। আল্লাহর ভয় আমার অন্তরে গেথে গেল। আস্তে আস্তে আমি সকল প্ৰকার অন্যায় কাজ ছেড়ে দিয়ে সক্ষম হয়েছি।
কিন্তু এখন অতীতে আমার করা কুকৰ্ম ও পাপের জন্য খুব অনুশোচনা হয়। কত অত্যাচার, অন্যায় করেছি সবার সাথে। আল্লাহ কি আমাকে অতীতের এসব গুনাহ ও অপরাধ মাফ করে দিবেন। সব শুনে ইমাম সাহেব আল্লাহর ক্ষমাশীলতা সম্পৰ্কে বৰ্ণনা করলেন। আল্লাহর রহমতের কাছে এসব গুনাহ কিছুই নয়। খাটি মনে তাওবা করলে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই ক্ষমা করে দিবেন।
পবিত্ৰ আল কোরআনুল কারীমে আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, "হে পরোয়ারদিগার, সরল পথ প্ৰদৰ্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে আর কঠিন করে দিওনা এবং তুমি আমাদের করুণা দান কর, তুমিই মহাদাতা অসীম করুনার আঁধার"। (সূরা আল- ইমরান আয়াতঃ 08)
আর একটি বাণী যা আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত, যথাযথ ভাবে সালাত আদায় কর, নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, আল্লাহর স্মরণই সৰ্বশ্ৰেষ্ঠ। তোমরা যা কর তা আল্লাহ অবগত। (সূরা আনকাবুতঃ আয়াত 45)
0 Comments