এক খ্ৰিস্টান বাদশাহ একটি চিঠিতে চারটি প্ৰশ্ন লিখে হযরত উমার রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর নিকটে পাঠিয়েছিলেন। বাদশাহ প্ৰশ্ন গুলির উত্তর চিঠির মাধ্যমে দিতে বলেছিলেন। আর উত্তর গুলি অবশ্যই আসমানী কিতাবের আলোকে দিতে বলা হয়েছিল।
আর এই চিঠির প্ৰশ্ন চারটি ঐতিহাসিক প্ৰশ্ন হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্বৰ্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
এটা ছিল বাদশাহর কুটবুদ্ধি। তিনি খলিফার জ্ঞান ও বুদ্ধির পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন খলিফা হয়ত প্ৰশ্নগুলির উত্তর দিতে পারবে না। কেননা প্ৰশ্ন গুলি এমনই জটিল ছিল যে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছাড়া এর উত্তর দেয়া সম্ভব নয়।
আমরা সকলেই জানি, হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ছিলেন একজন সুশিক্ষিত সুরুচিপূর্ণ সুবক্তা। ছোটবেলা থেকেই তিনি গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
এরপর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি আল কোরআনুল কারীমের উপর যথেষ্ট গবেষণা ও পড়াশোনা করেছেন। যার ফলে কোরআনুল কারিমের জটিল তথ্যগুলো তিনি সহজেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। যার নমুনা আমরা তার জীবনী পড়ে উপলব্ধি করতে পারি।
প্ৰশ্ন গুলি ছিল এরকম :
১ম প্ৰশ্ন : দুটি বাচ্চা একই মায়ের গৰ্ভ হতে একই দিনে একই সময়ে জন্মগ্ৰহন করেছে এবং তারা একই দিনে ইন্তেকাল করেছে, তবে তাদের একজন অন্য জনের চেয়ে ১০০ বছরের বড় ছিল। এই দুইজনকে ? এটি কিভাবে সম্ভব হয়েছিল?
২য় প্ৰশ্ন: পৃথিবীর কোন জায়গায় সূৰ্যের আলো মাত্ৰ একবার পড়েছিল যেখানে কিয়ামত পৰ্যন্ত আর কখনোই সূৰ্যের আলো পড়বে না?
৩য় প্ৰশ্ন: কে সেই কয়েদী, যার কয়েদখানায় শ্বাস নেয়ার কোন ব্যবস্হা নেই অথচ সে শ্বাস নেয়া ছাড়াই জীবিত থাকে?
৪ৰ্থ প্ৰশ্ন: সেটি কোন কবর, যার বাসিন্দা জীবিত ছিল এবং কবরও জীবিত ছিল। আর সেই কবর তার বাসিন্দাকে নিয়ে ঘোরাফেরা করেছে এবং পরবৰ্তীতে কবর থেকে তার বাসিন্দা জীবিত বের দীৰ্ঘকাল পৃথিবীতে জীবিত ছিল।
সুপ্ৰিয় পাঠকবৃন্দ, একবার ভেবে দেখুনতো, প্ৰশ্নগুলি কতটা জটিল। এমনভাবে প্ৰশ্নগুলি করা হয়েছিল যার উত্তর দিতে কেউ বোধগম্য হবে না। জ্ঞানেই তো ধরছে না। কেউ যদি আমাদেরকে এই প্ৰশ্নগুলি করত তাহলে আমরা কি সঠিক উত্তর দিতে পারতাম ????
হযরত উমার চিঠি পেয়ে প্ৰশ্নগুলি পড়লেন। তারপর উত্তর গুলি লেখার জন্য হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আনাস (রা) কে ডেকে পাঠালেন।
প্ৰশ্ন গুলির উত্তর ছিল এরকম:-
১ম উত্তর : তারা ছিল দুই ভাই এবং আল্লাহর নবী। একজন ওযায়ের আলাইহিস সালাম এবং হযরত ওযায়েয আলাইহিস সালাম। তারা একই দিনে, একই সময়ে জন্মগ্ৰহন করেন। আবার একই দিনে ইন্তেকাল করা সত্ত্বেও ওযায়ে আলাইহিস সালাম হযরত ওযায়ের আলাইহিস সালাম চেয়ে ১০০ বছরের বড় ছিলেন। এটা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইচ্ছাতেই হয়েছে।
হযরত ওযায়ের আলাইহিস সালাম এর একটি ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর পর আল্লাহ মানুষকে কিভাবে জীবিত করবেন তা স্বচক্ষে দেখবেন। আল্লাহ তা'আলা তার ইচ্ছা পূরণ করে দিলেন। তিনি হযরত ওযায়ের ১০০ বছর মৃত অবস্থায় রাখেন। এরপর আবার জীবিত করেন। এই কারনে তাদের দুভাইয়ের বয়সের ব্যবধান ১০০ বছর হয়ে যায়।
২য় উত্তর : এটি ছিল হযরত মূসা আলাইহিসসালাম এর মুজেজার কারন। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এর মুজেজার ফলে বাহরে কুলজুম তথা লোহিত সাগরের উপর রাস্তা হয়ে যায়। আর তখন সেখানে সূৰ্যের আলো পড়েছিল, যা পৃথিবীর ইতিহাসে একবারই। কিয়ামত পৰ্যন্ত আর কখনোই সূৰ্যের আলো সেখানে পড়বে না।
৩য় উত্তর: যে কয়েদী শ্বাস নেওয়া ছাড়া জীবিত থাকে সেই কয়েদী হলো মায়ের পেটের বাচ্চা, যে নিজ মায়ের পেটে কয়েদ (এখানে কয়েদ বলতে বন্দী থাকে বুঝানো হয়েছে) থাকে।
৪র্থ উত্তর : কবরের বাসিন্দা জীবিত এবং কবরও জীবিত ছিলো, সে কবরের বাসিন্দা হলেন হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম। আর কবর হল, ইউনুস আলাইহিস সালাম যে মাছের পেটে ছিলেন- সে মাছ। আর মাছটি, ইউনুস আলাইহিস সালাম কে নিয়ে ঘোরাফেরা করেছে। মাছের পেট থেকে বের হয়ে আসার পর, ইউনুস আলাইহিস সালাম অনেক দিন জীবিত ছিলেন। তারপর ইন্তেকাল করেন।
0 Comments