Islamic golpo: নবী প্রেমিক ব্যক্তির সাথে বেয়াদবি করার শাস্তি

Islamic golpo bangla


জাগার ইয়ামেনি (র) একজন প্রকৃত রাসুলপ্রেমিক। তাকে বলা হতো আশেকে রাসুল বা রাসুলের  আশেক-পাগল। মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন। অর্থাৎ তার হৃদয় ছিল রাসুল (সাঃ) এর প্রেম ভালবাসায় পরিপূর্ণ।

(আসলে নবী প্ৰেমিকের ভালোবাসার বৰ্ণনা তো লেখনির দ্বারা বুঝানো সম্ভব নয়। তাদের মতো নবী প্ৰেমিক হয়েই বুঝতে হবে। তারাতো সবকিছুর চেয়ে রাসুল (সাঃ) কে বেশি ভালোবাসে)

ইবনে জাগার (র) সর্বদা রাসুলের শানে কবিতা লিখতেন। আর সেই স্বরচিত কবিতা প্রতি বছর হজ্জে যাওয়ার পর রাসূলের রওজা মোবারকের সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত প্রেম-ভালোবাসা আবেগজড়িত কণ্ঠে পাঠ করতেন। এটা ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস। 

একবারের একটি ঘটনা। বরাবরের ন্যায় এবারও তিনি গেলেন হজ্জ করতে। হজ্জের যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করে ছুটলেন মদীনার দিকে। সেখানে পৌছে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর রওজা সামনে দাঁড়িয়ে অভ্যাসমতো কবিতা আবৃত্তি পাঠ করতে লাগলেন। কবিতায় রাসূল (সাঃ) ও তার প্রিয় দুই সাহাবী হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) ও হযরত উমার (রা) উনাদের প্ৰতি ভক্তি ও ভালোবাসার উক্তি ছিল।

যখন তিনি কবিতা পাঠ করছিলেন, তখন রাফেজী নামক স্থানীয় এক লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনছিল। রাফেজী হযরত আবু বকর (রা) ও উমার (রা) এর প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করতেন। আর তাই কবিতা শুনে সে রাগে ফুঁসতে লাগল। মনে মনে ভাবল, আমার নিকটে দাঁড়িয়ে এই ব্যক্তি আবু বকর ও ওমর এর প্রশংসা করছে। একে একটি উপযুক্ত শাস্তি দিতেই হবে। তাই সে ভয়ঙ্কর একটি ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করলো।

রাফেজী তখন ইবনে জাগার (র) নিকটে যেয়ে পরিচিত হয়ে উঠলেন। তিনি এখানকার স্থানীয় লোক বলে জানালেন। তাই ইবনে জাগার (র) কে অনুরোধ করলেন তাঁর বাড়িতে অতিথি হওয়ার জন্য। কেউ দাওয়াত দিলে তা আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করতে হয় এটাই তো রাসূলের (সাঃ) সুন্নত। ইবনে জাগার (র) রাসূলের প্রতি সুন্নত আদায় ও ভদ্রতার খাতিরে তার দাওয়াত কবুল করে নিলেন।

তার বাড়িতে মেহমান হিসেবে আসলেন। রাফেজী তাকে ফ্রেশ হতে বললেন। ইবনে জাগার (র) হাত-মুখ ধুয়ে পবিত্রতা অবলম্বন করলেন। তারপর খানা খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন।অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। খাবার আসার কোন নাম গন্ধ নেই।

এমন সময় দুজন হাবসি ঘরে প্রবেশ করলেন। তারা সরাসরি রাফেজির নিকট আসলো। রাফেজী ইশারায় ইবনে জাগার (র) কে দেখিয়ে দিলেন। ইঙ্গিত পাওয়া মাত্রই তারা ইবনে জাগার (র) কে পাকড়াও করে ফেললো। এক হাবসি তার হাত-পা শক্ত করে ধরল। অপর হাবসি ধারালো একটি ছুরি বের করে ইবনে জাগার এর জিহ্বা কেটে দিল।

রাফেজী তখন বলল, 'যাও হে কবি! এই কৰ্তিত জিহ্বা নিয়ে আবু বকর ও ওমরের নিকটে যাও। তাদের  যদি ক্ষমতা থাকে তো তোমার জিহ্বা আগের মতো করে দিক। এইবলে রাফেজী তাকে ছেড়ে দিলেন। 

ইবনে জাগার (র) সেখান থেকে রাসূলের রওজা শরীফে চলে এলেন। দয়ার নবী, মায়ার নবীর নিকটে কেঁদে কেঁদে রাফেজীর এমন নিৰ্মমতার ঘটনা বললেন। কাঁদতে কাঁদতে এক সময় তিনি বেহুশ ঘুমিয় পড়লেন। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নযোগে তিনি রাসূল (সা) ও তার দুই সাহাবীর দীদার লাভ করলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাসুলুল্লাহ (সাঃ), আবু বকর (রা) ও উমার (রা) সবাই খুব মর্মাহত হয়েছেন।

তিনি দেখলেন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জিব্বার কৰ্তিত অংশটি নিয়ে স্বহস্তে যথাস্থানে লাগিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে গেল। তিনি নিজের মুখে হাত দিয়ে দেখলেন সত্যিই তার জিহ্বা পূর্বের ন্যায় সম্পূর্ণ ঠিক।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আরেকটি মুজেজার সাক্ষী হলেন তিনি। গৰ্বে বুক ভেসে গেল। রাসূলের (সাঃ) প্রতি মুহব্বত আরো বেড়ে গেল। নিজ দেশে ফিরে আসলেন।

যথারীতি পরের বছরও হজ্জ করতে গেলেন। হজ্জ আদায় করে ছুটলেন মদিনায়। রাসূলের রওজা মোবারকে উপস্থিত হয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। আবৃত্তি শেষে যখন তিনি বের হয়ে আসছিলেন, তখন এক যুবক ছেলে তার সামনে এসে দাঁড়াল। যুবকটির সাথে তার পরিচয় হলো। কুশলাদি বিনিময় হলে যুবকটি তাকে অতিথি হওয়ার জন্য অনুরোধ করলো। রাসূলের সুন্নত আদায় করার জন্য তিনি আতিথ্য গ্রহণ করলেন।

আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রেখে রওনা দিলেন। যুবকটির বাড়িতে প্রবেশ করে তিনি অবাক হয়ে গেলেন। কেননা এটি ছিল সেই বাড়ি যে বাড়ির কর্তা তার সাথে অত্যন্ত নির্মম ও নিষ্ঠুর আচরণ করেছিল। তবে তিনি ভয় পেলেন না। চুপচাপ সবকিছুই স্বাভাবিক চলছে এরকম ভাবে রইলেন।

ঘরে প্রবেশ করলে যুবকটি তাকে অত্যন্ত আন্তরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের সহিত স্বাগতম জানালো। তার জন্য বিভিন্ন পদের খাবারের ব্যবস্থা করে অতি যত্ন সহকারে আপ্যায়ন করতে লাগল। তিনি নিঃসংকোচে সব কিছু খেলেন। খাওয়ার পর যুবকটি তাকে একটি রুমে নিয়ে গেল। 

রুমে তিনি একটি বানর দেখতে পেলেন। যুবকটি তাকে লক্ষ্য করে বলল, 'হুজুর বানরটিকে কি আপনি চিনতে পেরেছেন? ইবনে জাগার (র) না সূচক উত্তর দিলো। 

যুবকটি তখন কেঁদে ফেলল। অশ্রুসিক্ত নয়নে যুবকটি বলল, হুজুর! এই বানরটি সেই যিনি আপনার জিব্বা কেটে দিয়েছিল। তিনি আমার জন্মদাতা পিতা রাফেজী।

আপনার সাথে বেয়াদবি করার কারণে আল্লাহ তা'আলা তাকে নিকৃষ্ট বানরে পরিণত করে দিয়েছেন। আমার পিতার পক্ষ থেকে আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনি দয়া করে তাকে মাফ করে দিন।

ইবনে জাগার রহমাতুল্লাহ আলাইহি তার পিতাকে ক্ষমা করে দিলেন।


উপরোক্ত ঘটনাটি পড়ে আমরা কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করেছি। তা হলো:-

1. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জীবিত অবস্থায় রওজা মোবারকে অবস্থান করছেন। তাহার মুজিজা এখনো প্ৰকাশিত হচ্ছে। যা কিয়ামত পৰ্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

2. আল্লাহর অলীদের সাথে বেয়াদবী করলে দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তি পেতেই হবে। হাদিস শরীফে আছে, যারা আল্লাহর ওলীদের সাথে দুশমণি করে, স্বয়ং আল্লাহ তার সাথে জিহাদ ঘোষণা করেন।



Post a Comment

0 Comments