বাংলাদেশী মুদ্ৰার নাম যেমন টাকা, তেমনি ইরাকের মুদ্ৰার নাম দীনার।
হযরত মালেক বিন দীনার র. এর নামের শেষে দীনার শব্দটি যুক্ত হওয়ার পিছনে রয়েছে এক মৰ্মান্তিক ঘটনা। বিভিন্ন কিতাবে ঘটনাটি বৰ্ণিত হয়েছে এভাবে,
একদিন তিনি নদীর এপার থেকে ওপারে যাওয়ার জন্য নৌকায় উঠলেন।
নৌকার মাঝি ছিল খুব ধূৰ্ত ও অমানবিক।
সে মাঝনদীতে আসার পর সকলের নিকট ভাড়া চাইল। শুধুমাত্ৰ মালেক দীনার ছাড়া বাকী সবাই ভাড়া দিয়ে দিল।
কেননা তার নিকটে কোন টাকা ছিল না। সে খুব লজ্জিত হয়ে পড়ল।
লজ্জাবনত হয়ে মাঝির নিকটে তার অক্ষমতা প্ৰকাশ করল। একথা শুনে মাঝি রেগে গেল।
খাটাস মাঝি খুব কৃপণ ও নাছোড়বান্দা। সে সাফ জানিয়ে দিল ভাড়া ছাড়া তাকে নদী পার করাবে না।
তিনি নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। একপৰ্যায়ে মাঝি তার সাথে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিল।
নিরূপায় মালেক দীনার খুব বিনীত ভাবে বলল, ভাই সত্যিই আমার নিকটে কোনো টাকা-পয়সা নাই। আমাকে ক্ষমা কর।
খাটাস মাঝি এবার তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন। হিংস্ৰ জন্তুর মতো হয়ে উঠল।
ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলল, ব্যাটা! ভাড়া যদি নাই থাকে, তাহলে নৌকায় উঠেছিলি কেন'।
মাঝি একথা বলার সাথে সাথে মালেক দীনার (র) এর উপর ঝাপিয়ে পড়লেন। অনেক মারধোর করলেন।
মারের চোটে তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলেন। যাত্ৰিরা তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করল।
কিছুক্ষন পর জ্ঞান ফিরে এলে মাঝি আবার টাকার জন্য তাগাদা দিল। বরাবরের ন্যায় তিনি ক্ষমা চাইলেন। অসহায়ের মতো কাকুতি-মিনতি করলেন।
কিন্তু নিষ্ঠুর মাঝির মন গলল না। আরো জেদ চেপে বসলো। টাকা ছাড়া কিছুতেই পার করবে না, করবে না।
মাঝি আরো অত্যাচারী হয়ে উঠল। ঠিক করল, তার হাত-পা বেধে নদীতে ফেলে চলে যাবে।
নিরূপায় মালেক দীনার র.। মাঝি রশি দিয়ে তার হাত-পা বেধে ফেলল।
মালেক দীনার আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইল।
মাঝি যেই তাকে পানিতে ফেলতে যাবে ঠিক তখনি দেখা গেলা, নদীর সব মাছ মুখে একটি করে দীনার নিয়ে নৌকার চারপাশে ভেসে উঠল।
তখন মালেক দীনার র. একটি মাছের মুখ দীনার নিয়ে মাঝিকে দিল।
এ অলৌকিক ঘটনা দেখে সবাই হতবাক হয়ে গেল। সবাই বুঝতে পারল যে এনি কোন সাধারণ ব্যক্তি নন।
আর মাঝি সেতো ভয়ে চুপসে গেল। তার মনে ভীষণ ভয় ভীতির সঞ্চার হলো। সে তার পরিচয় জানতে চাইল। মালেক দীনার র নিজের পরিচয় দিলেন।
হায়, হায় একি করলাম আমি! না চিনে, না বুঝে কার সাথে বেয়াদবী করলাম। এ ভাবনায় মাঝি একেবারে হতবিহ্বল হয়ে পড়ল।
তৎক্ষনাৎ তার পায়ের উপর পড়ে গেল। যতক্ষন না ক্ষমা পাবে, তার আগে পা ছাড়বে না। মালেক দীনার র. তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
মাঝি এবার উদ্যত হলো নৌকা চালাতে। কিন্তু মালেক দীনার র. আর নৌকায় না যেয়ে পানির উপর দিয়ে হেটে নদী পার হলেন।
এ ঘটনার দৃশ্য/কথা সব জায়গায় ছড়িয়ে গেল। তখন থেকেই তার নামের সাথে দীনার শব্দটি যুক্ত হয়েছে।
0 Comments