এক আরবীয় বেদুইন পেল সঠিক বিচার


তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর খিলাফতকাল চলছিল।

এক আরবীয় গরিব বেদুইন বাস করত। পেশায় সে একজন কৃষক। 

একবার সে গেল হজ করতে। নিৰ্দিষ্ট সময়ে হজের কার্য সম্পাদনের জন্য সে কাবার চারপাশে তাওয়াফ করতে লাগল।

হঠাৎ একটি চাদরের এক অংশ তার পায়ের তলায় পড়ে গেল। এর ফলে চাদরটি গায়ে দিয়েছিলেন তার কাধঁ থেকে নিচে পড়ে গেল।

তৎক্ষণাৎ চাদরের মালিক ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে তাকে সজোরে এক থাপ্পর মেরেদিলেন।

তখন ছিল হযরত উমার রা খিলাফতকাল। তিনিও গিয়েছেন হজ্জ করতে। 

কৃষকটি খলিফার নিকটে গিয়ে নালিশ দিলেন এবং তার প্ৰতি যে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে তার সঠিক বিচারের দাবি জানাল। 

তার কথা শুনে খলিফা তখন চাদরের মালিককে ডেকে পাঠালেন।

চাদরের মালিক ছিল জাবালা ইবনে আদহাম যিনি একজন রাজা। সদ্য ইসলাম গ্রহণ করে গিয়েছেন হজ করতে। 

যাইহোক খলিফা ডেকে পাঠানোয় তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। 

খলীফা তাকে উদ্দশ্য করে জানতে চাইলেন যে অভিযোগ সত্য কিনা?

জাবালা প্রতি উত্তরে বললেন, সম্পূর্ণ সত্য। এই ছোকড়াঁটা আমার মূল্যবান দামি চাদর তার পা দ্বারা পিষ্ঠে নোংরা করে দিয়েছে। আর চাদরটা তখন আমার শরীর থেকে পড়ে যাওয়াতে আমি আল্লাহর ঘরের সামনে ও মানুষদের অর্ধ উলঙ্গ হয়ে গেছিলাম।

খলিফা বললেন, "কিন্তু এটাতো দুর্ঘটনা! সে তো ইচ্ছা করে আপনাকে অসম্মান করেনি।

জাবালা বললেন, "কিন্তু আমি এটা পরোয়া করিনা! কত বড় স্পর্ধা ওর আমার চাদর বিনষ্ট করা!

কাবা শরীফের সম্মানের খাতিরে ও কাবার চত্বরে রক্তপাত নিষিদ্ধ বিধায় আমি তাকে সামান্যতেই ছেড়ে দিয়েছি। অন্য কোন স্থানে এমনটা করলে আমি তৎক্ষণাৎ ওকে হত্যা করে ফেলতাম।

এই জাবালা ছিল খলিফার ব্যক্তিগত বন্ধু ও শক্তিশালী একজন মিত্র। তাই তিনি একটু চিন্তায় পড়ে গেলেন। তবে অন্যায়কারীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। কোন কোন আপোষ চলবে না।

খলিফা শান্তভাবে জাবালাকে বললেন, "জাবালা, তুমি নিজেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেছ।  এখন তুমি যাকে চড় দিয়েছ সে যদি স্বইচ্ছায় তোমাকে ক্ষমা না করে তাহলে ইসলামের আইন মোতাবেক অবশ্যই তোমাকে শাস্তি পেতে হবে।

আর শাস্তি হিসেবে তোমাকে তার হাতে একটি চড় খেতে হবে।

একথা শুনে জাবালা স্তব্ধ হয়ে গেল।

বিস্মিত কন্ঠে বলল, "আমি একজন রাজা ও বীরযোদ্ধা। আর ও তো সামান্য একজন বেদুইন। চাষাবাদ করে খায়। আমি কিভাবে ওর কাছে ক্ষমা চাইতে পারি।

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, "ইসলামের আইনে সবাই সমান। যে কেউ অপরাধ করলে অবশ্যই তাকে শাস্তি পেতে হবে। হোক সে রাজা বাদশা, হোক সে ধনী অথবা গরিব।

যেহেতু তুমি মুসলমান হয়েছো আর ইসলামী আইন কে মানো। অতএব তুমি শাস্তির জন্য প্ৰস্তুত হও।

জাবালা বললেন, "কি বলছেন আপনি এসব! এ কেমন বিচার! যে ধর্মে রাজা-বাদশা ও একজন সাধারন প্রজাকে সমান চোখে দেখা হয়, আমি সেই ধর্মের আনুগত্য করতে পারব না।

ওই কৃষক যদি সত্যিই আমাকে চড় দেয়, তবে আমি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে পূৰ্বের ধর্মের ফিরে যাব।(নাউজুবিল্লাহ)

একথা শুনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু  রাগ করে উঠলেন। তিনি ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললে," তুমি জাবালা কেন?

তোমার মত হাজারো জাবালা যদি ইসলাম ত্যাগ করে চলে যায়, তবে সেই ভয়ে ইসলামের একটি ক্ষুদ্রতম বিধিও লঙ্ঘিত হতে পারে না। 

অপরাধের শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে। আর একটা কথা মনে রাখো, ইসলাম কাউকে জোরপূর্বক মুসলমান বানায় না। সুতরাং তোমাকেও বানায়নি। তুমি স্বইচ্ছায় মুসলমান হয়েছে।

কিন্তু এখন সহজে তুমি ইসলাম ত্যাগ করতে পারবে না। যারা ইসলাম ত্যাগ করে তাদেরকে মুরতাদ বলা হয়। আর মুরতাদের শাস্তি অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড।

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কথা শুনে জাবালা একদম নিশ্চুপ হয়ে গেল। ভয়ে তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো।

তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর নির্দেশে কৃষকটি জাবালার মুখে ঠাস করে একটা চড় মেরে দিলেন। প্রতিশোধ নিতে পেরে বেশ আনন্দিত হলো।

কিন্তু জাবালা এটা হজম করতে পারলো না। রাগে তার চক্ষু নীল হয়ে গেল। তারপর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সে স্থান ত্যাগ করে চলে গেল। 

বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে, এ ঘটনার পর জাবালা সত্যিই ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেন।

তবে প্রাণের ভয়ে নিজ দেশে থেকে পালিয়ে রোমের বাদশাহর রাজপ্রসাদে আশ্রয় গ্রহণ করে জীবনের বাকি সময় গুলো ওখানে কাটিয়ে দেন


আরো ইসলামিক গল্প পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/2021/10/blog-post_67.html?m=1


শিক্ষনীয় গল্প পড়ুন নিচের লিংকে ক্লিক করে 

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/2021/10/blog-post_88.html?m=1


সাহাবীদের জীবনীতে শিক্ষনীয় ঘটনা পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

https://islamicbioygraphy.blogspot.com/2021/10/blog-post_66.html?m=1



সাহাবীদের জীবনী গল্প পড়তে নিচের লিংকগুলোতে ক্লিক করুন

১ দুই মুসাফির = আট দিরহাম

২ অত্যাচারী বাদশা ও ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর ঘটনা

৩ হযরত আবু বক্কর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কয়েকটি ঘটনা

৪ আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর মায়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের একটি ঘটনা

৫ হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ও কাজী সুরাইহার একটি বিচার

৬ ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ও তার সৎ পুত্রবধূর একটি ঘটনা

৭ ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর ইসলাম গ্রহণ মানেই মুসলমানদের বিজয় যাত্রা

৮ ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে যে চারটি প্রশ্ন করেছিল খ্রিস্টান বাদশাহ

 ৯ হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর ন্যায়বিচারের ঘটনা

Post a Comment

0 Comments