Islamic bangla golpo: অত্যাচারী বাদশা ও ওমর (রা) এর একটি ঘটনা

 


তখন হরমুজান ছিল পারস্যের শাসনকর্তা। একসময় তিনি ছিলেন ইসলামের চরম শত্রু। তার নেতৃত্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অনেকগুলি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। প্রত্যেক যুদ্ধে অগণিত মুসলমান শহীদ হয়।

অবশেষে কোন এক যুদ্ধে তিনি মুসলমানদের হাতে বন্দী হন। তখন ছিল খলিফা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহার খিলাফতকাল। হরমুজানকে খলীফার নিকট আনা হলো।

মনে মনে হরমুজান ভাবলেন তার আর রক্ষা নেই। খলিফা নিশ্চয়ই তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেবেন অথবা ক্রীতদাস হিসাবে কোথাও বিক্রি করে দিবেন।

কিন্তু ঘটনা ঘটলো ঠিক উল্টো। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন," যদি তুমি সঠিকভাবে কর দাও তাহলে তোমাকে ছেড়ে দেয়া হবে। 

হরমুজান তাতে রাজি হয়ে গেল এবং নিয়মিত কর দিবে বলে ওয়াদা করলো। তাকে মুক্ত করে দেয়া হলো। হরমুজান নিজের রাজ্যে ফিরে গেলেন।

পরবর্তীতে সে ওয়াদার কথা ভুলে গেল। কিছুদিন পর সৈন্যসামন্ত নিয়ে আবার মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে নেমে পড়লেন। আবারো তিনি মুসলমানদের হাতে পরাজিত হয়ে বন্দী হলেন। খলিফার দরবারে হাজির করা হল।

খলিফা বললেন, "কেন আপনি, বারবার আরবের মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন? হে কুখ্যাত শাসনকর্তা, কেন বারবার অন্য যুদ্ধের কারণ ঘটিয়েছেন"?

হরমুজান বললেন, "আমি মুসলমানদের কাছে নতি স্বীকার করব না। তাই মুসলিমদের পিছু হটাবার জন্য বারবার যুদ্ধ করেছি"।

খলিফা বললেন, "কিন্তু একথাটি কি মিথ্যা যে আপনাকে পরাজিত ও বন্দী করার পরও প্রস্তাব অনুসারে সোহেলনামার জন্য মুক্তি দেয়া হয়েছে। আর আপনি ওয়াদাও করেছিলেন। কিন্তু আপনি ওয়াদা ভঙ্গ করে আবারো অন্যায় যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন"।

এ কথা শোনার পর হরমুজান একেবারে চুপ হয়ে গেলেন।

খলিফা বললেন, "অন্যায় ভাবে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে আপনি মুসলমানদের যে ক্ষতি করেছেন তার খেসারত আপনাকে অবশ্যই দিতে হবে। আপনি কি জানেন এজন্য আপনাকে সাজা দেয়া হবে"?

হরমুজান বলল," হ্যা জানি। আপনি আমাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিবেন কিন্তু হরমুজান সে জন্য প্রস্তুত আছে"।

খলিফা বলল," যদি বলি এই মুহুর্তেই আপনার মৃত্যু হবে"।

হরমুজান বললো,"আমি প্রস্তুত"। 

খলিফা বললো," আপনার কি কোন শেষ ইচ্ছা আছে?  যদি থাকে তাহলে অবশ্যই তা পূরণ করা হবে"। হরমুজান বলল, "আমি শুধু এক গ্লাস পানি খেতে চাই"। 

খলিফা বলল, "আপনি তৃপ্তিসহকারে পানি খেয়ে নিন"।হরমুজান পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। সে পানি খেতে বিলম্ব করছে।

হরমুজান বলল, "আমার শুধু ভয় হচ্ছে এটাই যে পানি খাওয়ার সময় জল্লাদ আমার ঘাড়ে আঘাত করবে কিনা"?

খলিফা বলল, "আপনার কোন ভয় নেই। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, এই পানি পান না করা পর্যন্ত কেউ আপনাকে আঘাত করবে না"।

একথা শুনার সাথে সাথে হরমুজান তৎক্ষণাৎ বাটির  পানি মাটিতে ফেলে দিয়ে বলল, "মহামান্য খলিফা আপনি যেহেতু বললেন এই পানি পান না করা পর্যন্ত কেউ আমাকে হত্যা করবে না, তাই আমি পানি ফেলে দিলাম"। এখন আপনার কথা অনুসারে কেউ আর আমাকে হত্যা করতে পারবেনা।

কিছুক্ষণ হেসে খলিফা বলল, "হরমুজান! নিজেকে রক্ষার জন্য যে পরিকল্পনা করেছো তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। মুসলমানরা যেহেতু কথা দিয়েছে তাই কথার কোন খেলা বরখেলাফ হবেনা"। 

"আপনাকে আবারও মুক্ত করা হলো। আপনি নির্ভয় আপনার রাজ্যে ফিরে যেতে পারেন"।

হরমুজান তার রাজ্যে ফিরে গেলেন। তিনি নিজেকে আর যুদ্ধে জড়ালেন না। কেননা খলিফার এমন ব্যবহার তাকে ভাবিয়ে তুলেছে।

উনি সত্য ও সুন্দরের পথ চিনতে পারলেন। তাই দেরি না করে বহু সংখ্যক সৈন্য সামন্ত নিয়ে আবার এলেন খলিফার রাজ্যে।

খলিফা কে উদ্দেশ্য করে বললেন, "আমিরুল মু'মিনিন, হরমুজান আবার এসেছে কিন্তু এবার এসেছে যুদ্ধ করতে নয়, আত্মসমর্পণ করতে। এসেছে এক নতুন জীবনের সন্ধানে। আপনি তাকে ও তার অনুসর্গকে ইসলামে দীক্ষিত করুন"।

কথা বলার সময় হরমোনের মুখ গাল বেয়ে ভালোবাসার অশ্রু ঝরাতে লাগলো। তিনি আর কথা বলতে পারলেন না। তার কন্ঠ ক্ষীণ হয়ে এলো। খলিফা থাকা আলিঙ্গন করলেন।



Post a Comment

0 Comments