আত্নহত্যার বন, জাপান


মনে করুন, আপনি বন্ধুদের সাথে বনে গিয়েছেন পিকনিক করতে। বনের চারপাশ দেখে আপনি বিস্মিত। ধীরে ধীরে আপনি সবুজ প্রকৃতির শ্যামল শোভার মাঝে হারিয়ে যাচ্ছেন। চারপাশে সবুজ গাছ-গাছালির সারি, কত চেনা-অচেনা পশুপাখির কিচির-মিচির মনে জাগাচ্ছে সজীবতা। এমন সুন্দর অপরূপ প্রকৃতি আপনার দেহ-মনকে করছে সুশান্ত। কত সজীবতায় ছেয়ে গেছে আপনার দেহ-মন? 

আপনি অবাক বিস্ময়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু চলতে চলতে হঠাৎ আপনার সামনে জ্যান্ত লাশ/ কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখেন তখন কি অনুভূতি হবে? ভয়ে কি আপনার গা শিউরে উঠবে না? ভয়ে আড়ষ্ঠ হয়ে, আপনি চিৎকার করে বন্ধুদের ডাকছেন। হয়ত ভাবছেন, এটা আমি কোথায় এলাম রে বাবা! বনের মাঝে এতো লাশ, এতো কঙ্কাল কোথা থেকে এলো?

আচ্ছা এই কল্পনা যদি সত্যিই বাস্তবে দেখা যায়। এই বৈচিত্রময়  পৃথিবিতে অবিশ্বাসের তো কিছু নেই।

'আওকিগাহারা' জাপানে অবস্থিত একটি বন। এই বনটি 'শয়তানের বন' বা 'আত্নহত্যার বন' নামে সারাবিশ্বে পরিচিত  হয়। এরূপ নামের কারন হলো, এই বনে মানুষের লাশ/কঙ্কাল দেখতে পাওয়া যায়। না, বন্ধুরা এটা কোনো ভৌতিক ব্যাপার নয়।

সুখ-সমৃদ্ধির দেশ জাপানে আত্নহত্যার পরিমাণ এত বেশি যে  প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার জাপানী আত্নহত্যা করে। এর মধ্যে প্রায় ৫০-১০০ জন জাপানী এই আওকাগাহারা বনে এসে আত্নহত্যা করে। একারনে এই বনকে আত্নহত্যার বন বলা হয়। এই বনে গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যার করে বেশি।

একটাবার ভেবে দেখুন, এরকম একটা ভয়ংকর জায়গার নাম শুনলেই তো ভয়ে গা ছিমছিম করে। তারপরও সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই বনে আসে মৃতদেহ সন্ধান করতে। এই বনের একটু দুরে দুরে লেখা রয়েছে সতর্ক বার্তা। যেমন, 'একটু চিন্তা করুন', 'আরেকবার ভাবুন', 'পরিবারের কথা ভাবুন', এরকম আরো অনেক কিছু। কিন্তু শয়তান কি আর ঘাড় থেকে সরে। 




ঐতিহাসিকদের মতে, ১৯৬০ সালে এক জাপানী লেখক 'কুরোয় কাইজো' নামে একটি উপন্যাস লেখেন, যেখানে এই বনে প্রেমিক-প্রেমিকার আত্নহত্যার মাধ্যমে উপন্যাসটি সমাপ্তি ঘটে। এই উপন্যাসটি জাপনীদের মনে দাগ কাটে। তাদের স্মরনে তখন থেকে জাপানীরা আত্নহত্যা করতে আসি এই বনে।

কিন্তু অধিকাংশ লোকের দাবি উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার অনেক আগে প্রায় ঊনিশ শতক থেকে এখানে আত্নহত্যা করে।


Post a Comment

0 Comments