Bangla golpo: উপযুক্ত বিচার

            Bangla golpo: উপযুক্ত বিচার


বাংলার ইতিহাসে যত সংখ্যক প্ৰজাবৎসল সুলতান ছিলেন তাদের অন্যতম একজন গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ। ইতিহাসবিদরা তাকে বাংলার শ্ৰেষ্ঠ সুলতান মনে করেন।

কারন তিনি ছিলেন বীর যোদ্ধা, ন্যায় শাসক, দয়ালু, মহৎ হৃদয়ের, গরিব অসহায়দের হিতাকাঙ্খি, উন্নয়নের ধারক।

আর মহান এই শাসকের জিবনীতে রয়েছে অনেকগুলি শিক্ষনীয় ও উপদেশমুলক ঘটনা। এখানে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো -

একদিন তিনি বনে গিয়েছিলেন হরিণ শিকারের জন্য। সারাদিন বনের এক প্ৰান্ত থেকে অন্য প্ৰান্ত ঘুরেও কোন হরিণ শিকার করতে পারলেন না।

তাই ক্লান্ত হতাশা নিয়ে প্ৰাসাদের দিকে ফিরে আসছিলেন। হঠাৎ বনের মধ্যে কুটিরের প্ৰান্তে একটি হরিণ শাবককে দেখতে পেলেন। সঠিক নিশানা করে তীর নিক্ষেপ করেন।

কিন্তু দুৰ্ভাগ্যবশতঃ লক্ষ্যভ্ৰষ্ট হয়ে তীরটি কুটিরের নিকট দাড়িয়ে থাকা এক বিধবার ছেলের বুকে বিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই ছেলেটি মারা যায়।

অসহায় বিধবা উপায়ন্তর না পেয়ে কাজীর দরবারে সুলতানের বিরুদ্ধে ছেলে হত্যার বিচার চাইল। বিধবার বিচার দাবি শুনে কাজী হতবিহ্বল হয়ে পড়ল। নিৰ্ভীক কাজী সৎ সাহস নিয়ে সুলতানকে ডেকে পাঠালেন। 

সুলতান বিচারালয়ে আসলে কাজী উপস্থিত সকলের সামনে বললেন," বিধবার যে ক্ষতি আপনি করেছেন যে কোন মুল্যে তার ক্ষতিপূরণ অবশ্যই দিতে হবে। বিচারের সঠিক ফয়সালা শোনার জন্য আপনি কি প্ৰস্তুত??" 

কাজীর এমন সাহসিকতা, সততা, ন্যায় বিচার দেখে সুলতান আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে গেলেন। সুলতান বললেন, " আমি আপনার সততা ও সাহসে গৰ্বিত। সত্যি আপনিই এই পদের যোগ্য। তাই আমি আপনার যেকোনো ফয়সালায় রাজি আছি"।

তখন কাজী বললেন , "মহামান্য সুলতান বিশ্বাস করুন! আপনি যদি আমার ফয়সালা মেনে না নিতেন তাহলে আমি আপনাকে এমনভাবে বেত্ৰাঘাত করতাম যেমনটা সবার বিচারের ক্ষেত্ৰে করে থাকি। অবশেষে কাজীর ফয়সালা অনুযায়ী পুত্ৰ হত্যার ক্ষতিপূরন স্বরপ সুলতান বিধবাকে অঢেল ধন-সম্পদ দেন।



Post a Comment

0 Comments