Bangla golpo: আলেকজান্ডার ফ্লেমিংয়ের বিস্ময়কর ঘটনা



স্কটল্যান্ড নামক একটি দেশে ফ্লেমিং নামে এক দরিদ্র কৃষক বাস করতো। স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে তার পরিবার। একদিন সকালবেলা, তিনি গেলেন জমিতে ফসল বুনতে। দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর তিনি একটি গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।

হঠাৎ একটি পুকুর থেকে কেউ একজন বলছে,"আমাকে সাহায্য করো! পানিতে ডুবে যাচ্ছি । বাচাও! বাচাও! সাহায্য করো কেউ। চিৎকার শুনে সেখানে দৌড়ে গেল সে। গিয়ে দেখল এক ছোট্ট ছেলে পানিতে ডুবে যাচ্ছে।

তৎক্ষণাৎ সে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করল। ছেলেটি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেল। তারপর ঠিকানা নিয়ে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিলো।

ছেলেটি বাড়িতে গিয়ে তার বাবার নিকট সমস্ত ঘটনা বলল। পরদিন কৃষকটি কাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। ঠিক তখন একটি দামি গাড়ি তার বাড়ির উঠানে এসে থামল।

মার্জিত পোশাক পরিহিত এক ভদ্রলোক ও গতকাল দুর্ঘটনায় পড়া সেই ছোট্ট ছেলেটি গাড়ি থেকে বের হয়ে এলো। ভদ্রলোকটি ছেলেটির বাবা বলে পরিচয় দিলেন।

ছেলের প্রাণ বাঁচানোর জন্য কৃষক ফ্লেমিংকে ধন্যবাদ জানালো এবং উপকারের কিছুটা প্রতিদান দিতে চাইল। কিন্তু কৃষক ছিল সৎ এবং নির্লোভ। তাই সে কিছুতেই প্রতিদান নিতে রাজি হলো না।

এমন সময় ফ্লেমিংয়ের ঘর থেকে বের হয়ে আসলো তার ছেলে। ভদ্ৰলোকটি ফ্লেমিংকে বলল, "এটা কি আপনার ছেলে"। 

হ্যা, আমার ছেলে।

ভদ্রলোক বলল, "জনাব আমি আপনাকে একটা প্রস্তাব দিতে চাই। আপনি অবশ্যই না করবেন না। আপনার ছেলেটা আমাকে দিয়ে দিন।

সে আমার নিকটে থেকে আমার ছেলের মত ভালো জায়গায় পড়াশোনা করবে। এতে যত টাকা পয়সা লাগে সব খরচ আমার।

আপনার মত মহৎ ব্যক্তির সামান্য গুনও যদি ওর মধ্যে থাকে তাহলে একদিন সে অনেক বড় হবে। ফলে তাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারব।

কৃষক এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেল। তারপর ভদ্রলোকটি কৃষকের ছেলেটিকে সেই দেশের সবচেয়ে ভালো স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। 

ছেলেটি ছিল অত্যন্ত মেধাবী। লন্ডনের সেন্ট মেরিস মেডিকেল এন্ড হসপিটাল থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক পাস করল। মেডিকেল থেকে ডিগ্রী নিয়ে কর্মজীবন শুরু করলো।

দীর্ঘসময় গবেষনা, পরিশ্রমের পর পেনিসিলিন  আবিষ্কার করে ফেলল। এর ফলে সারা বিশ্বে তার সুনাম-সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল।

এখন সবাই তাঁকে নিয়ে গর্ববোধ করতে লাগলো। অৰ্থাৎ ছোট বেলার সেই কথা বাস্তবে পরিণত হলো। বিশ্বজোড়া খ্যাতিমান এই চিকিৎসা বিজ্ঞানীর নাম স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং।

আর তার সফলতার পেছনে যার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি সেই ভদ্রলোক টির নাম লর্ড রানডলফ চার্চিল এবং তার ছেলে যিনি পানিতে পড়ে গিয়েছিল তার নাম স্যার উইস্টন চার্চিল।



Post a Comment

0 Comments