হসপিটালে ইমারজেন্সি রোগী (একটি ছোট্ট ছেলে) আনা হয়েছে। অবস্থা খুব বিপদজনক।
জরুরি অপারেশন করতে হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বড় ডাক্তার কে ফোন করে দ্রুত আসতে বলল। সবাই ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।
তড়িৎ গতিতে ডাক্তার সাহেব চলে এলেন হসপিটালে। তারপর নিজেকে তৈরি করে নিল সার্জারির জন্য। কোনো রকমে তৈরি হয়ে দ্রুত পায়ে অপারেশন থিয়েটারের দিকে গেল। সেখানে দেখল রোগীর আত্মীয় স্বজন সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে বসে আছে।
তাকে দেখে এক ভদ্রলোক চেঁচিয়ে বলল," আপনি আসতে এত দেরি করলেন কেন? ন্যূনতম দায়িত্ববোধ কি আপনার আছে?
আপনি জানেন! আমার ছেলেটা কতটা শোচনীয় অবস্থায় আছে! কত কষ্ট পাচ্ছে ও এবং যে কোনো সময় কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।
ভদ্রলোকের কথা শুনে ডাক্তার সাহেব মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলল," আমি দুঃখিত। একটু সমস্যার কারণে চলে গিয়েছিলাম। ফোন পেয়েই তাড়াহুড়ো করে চলে এসেছি। তাই একটু দেরী হল।
আপনারা উত্তেজিত না হয় শান্ত হোন আর ধৈর্য্য রাখুন। ভরসা রাখুন আল্লাহর উপরে। ইনশাল্লাহ ভালো কিছু হবে। বাকিটা আমাকে দেখতে দিন। ইনশাল্লাহ ভালো কিছু হবে।
ভদ্রলোকটি ডাক্তারের কথাশুনে আরো রেগে গেলেন। ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলল, "শান্ত হব! কিভাবে শান্ত হব বলেন আমাকে? আজ আপনার সন্তানের যদি এমন হতো।
আপনার সন্তান যদি যন্ত্রণায় ছটফট করত, তাহলে কিভাবে শান্ত থাকতে পারতেন? যেকোনো মুল্যে হোক আমার ছেলেকে বাঁচাতে চাই ডাক্তার"।
তখন ডাক্তার সাহেব মৃদু হেসে বলল," দেখুন পবিত্র কোরআনে বলা আছে আল্লাহ তা'আলাই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু তার হুকুম হয়। প্রত্যেককে যতোটুকু আয়ু দেয়া হয়েছে সে ততটুকু সময় বাঁচবে। ডাক্তার কাউকে দীর্ঘ জীবন দান করতে পারে না।
তারা শুধু উসিলা মাত্র।
তাই দুশ্চিন্তা না করে আপনার সন্তানের জন্য প্রার্থনা করতে থাকুন। আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে ইনশাআল্লাহ।
এ কথা শুনে তার রাগ আরও বেড়ে গেল।
তিনি বললেন," অন্যদের উপদেশ দেওয়া খুব সহজ। এমন পরিস্থিতিতে আপনি পড়লে বুঝতেন।
ডাক্তার সাহেব তার কথাগুলি নিরবে সহ্য করে অপারেশন থিয়েটারে চলে গেলেন।
দীর্ঘসময় অপরেশন চলল।
বাইরে রোগীর আত্মীয় স্বজন অপেক্ষা করতে লাগল। অবশেষে দরজা খুলে গেল।
হাসিমুখে ডাক্তার সাহেব বেরিয়ে এলেন। তিনি জানালেন, আলহামদুলিল্লাহ অপারেশন সাকসেস হয়েছে। এখন আপাতত শঙ্কামুক্ত।
উপস্থিত সবাই খুশি মনে শুকরিয়া আদায় করল। ডাক্তার সাহেবকে ধন্যবাদ দিল।
ডাক্তার সাহেবকে বলল, আপাতত এখন বিপদমুক্ত। তার জ্ঞান ফিরতে সময় লাগবে।আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে নার্সকে জিজ্ঞাসা করে নেবেন।
ডাক্তার সাহেব হাসিমুখে কথাগুলি বলে দ্রুত প্রস্থান করলেন। তখন রোগীর পিতা ডাক্তারের এমন আচরনে অসন্তুষ্ট হলো।
তিনি নার্সকে বললেন," আপনাদের ডাক্তার এত নিষ্ঠুর কেন? তিনি কি আর কিছুক্ষণ থাকতে পারতেন না! আমার ছেলের ব্যাপারে আরও কিছু জিজ্ঞাসা করতাম। কিন্তু তার সময় হল না।
তখন নার্স বললোঃ আমাদের ডাক্তার সাহেবের একমাত্র ছেলে সকালে রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে। ইমার্জেন্সী ফোন পেয়ে জানাজা না করেই এখানে চলে এসেছেন। এখন বোধ হয় কবর দেয়ার জন্য দ্রুত চলে গেলেন।
0 Comments