Islamic golpo: ইমাম আবু হানিফা (রহ) এর সাথে নাস্তিকদের বিতৰ্ক



ইমাম আবু হানিফা (র) এর সময়ে কিছু নাস্তিক ছিল; যারা নিজেদের খুব পন্ডিত মনে করত। তারা সব ধর্মের অবমাননা করত। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের প্রতি সব সময় বিদ্বেষ পোষণ করত।

মুসলমানদের সাথে ঠাট্টা বিদ্রুপ করত। তাদের কাছে সাধারণ মুসলমানরা হাসির পাত্র হতো। কিন্তু মুসলমানরা ইমাম আবু হানিফা (র) নিয়ে গর্ববোধ করতেন। তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞামত্তা নাস্তিকদের সামনে তুলে ধরতেন। তখন নাস্তিকরা সবাই চুপ হয়ে যেত।

একদিন নাস্তিকরা ইমাম সাহেবের সাথে বিতর্ক করার প্রস্তাব জানালো। কেননা সেই সময়কালে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান, বিজ্ঞ আলেম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

নাস্তিকরা ভাবল, বিতর্ক দ্বারা যদি তাকে হারানো যায়। তাহলে মুসলমানদের মাথা একদম হেঁট হয়ে যাবে। তখন সবসময় মাথা নিচু করে চলবে। তখন আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠা যাবে এবং অন্যদেরকে সহজেই নাস্তিক বানাতে সক্ষম হবো।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইমাম সাহেব তাদের প্রস্তাবে রাজি হলেন। বিতর্কের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল:- মহাবিশ্বের সবকিছু একাই সৃষ্টি হয়েছে! নাকি কেউ সৃষ্টি করেছেন।

নাস্তিকদের পক্ষ থেকে সবাই বিতর্কে অংশগ্রহণ করতে পারবে। আর মুসলমানদের অর্থাৎ আস্তিকদের পক্ষ থেকে ইমাম আবু হানিফা (র) অংশগ্রহণ করবে। বিতর্কের দিন চলে এলো।  যথাসময়ে সবাই এসে উপস্থিত হল। নাস্তিকরা এসেছে সর্বোচ্চ প্রস্ততি নিয়ে। তাদের মনে একটা চিন্তা যেভাবেই হোক বিতর্কে জিততে হবে। মুসলমানদের মাথা হেঁট করতেই হবে।

আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু এখনো ইমামের  উপস্থিত হতে পারেননি। সবাই ভাবলো হয়তো কোন সমস্যার  কারনে তিনি আসতে পারছেন না। মুসলমানরা তার জন্য পথ চেয়ে আছে। অনেক সময় পেরিয়ে গেল অথচ তার দেখা নেই। অধৈর্য হয়ে পরলো মুসলমানরা। আজকে তাহলে নাস্তিকদের কাছে তারা অপমানিত হবে। তাদের দুশ্চিন্তা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে নাস্তিকরা মনে মনে খুব খুশি হতে লাগল। কেননা তিনি না আসলে বিনা বিতর্কেই জিতে যাবে। তাই তারা খোচা দিয়ে কথা বলতে লাগল।

মুসলমানরা সবাই হতাশ হয়ে যাচ্ছে। ধরে নিল তার উপস্থিতি এখন অনিশ্চিত। তিনি হয়তো পরাজয়ের ভয়ে আসতেছে না। সবাই যার যার মতো চলে যেতে উদ্যত হল। ঠিক তখনই ইমাম সাহেব এসে উপস্থিত।

সবাই জিজ্ঞাসা করল, কি কারনে আপনার এত দেরি হল? তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি মঞ্চে উঠে গেলেন। ইমাম সাহেব বললেন, "আজ আপনাদের সত্যিই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা বলব যা কিছুক্ষণ আগে আমার সাথে ঘটেছে। যে কারণে আমার এখানে আসতে দেরি হল"।

কি এমন ঘটতে পারে ? শোনার জন্য সবাই উত্তেজিত হয়ে পড়ল। সবাই  অনুরোধ করল পুরো ঘটনাটি বলার জন্য। ইমাম সাহেব বললেন," আমার মনে হয়, ঘটনাটি শোনার পর আপনারা কেউ আমার কথা বিশ্বাস করবেন না। উল্টা আমাকে পাগল বলে আখ্যায়িত করবেন। এজন্য আমি বলতে চাচ্ছি না। 

তখন নাস্তিকরা বলল, "হযরত! আপনার মত বিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব এমন কথা বলবে না যা সবার নিকট অগ্রহণযোগ্য। আমরা অবশ্যই আপনার কথা বিশ্বাস করব।

নাস্তিকদের সমর্থন পেয়ে ইমাম সাহেব বলতে শুরু করলেন," এখানে আসার জন্য আমি বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে নদীর ঘাটে পৌছালাম। তখন নদীতে কোন নৌকা দেখতে পেলাম না। আশেপাশে কোন বাড়িঘর নেই, লোকালয় নেই। তাই কোনো লোকজনের দেখা পেলাম না। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। তখন ঘটলো এক অবাক কান্ড।

একটি  গাছ ভেঙ্গে নদীতে পড়ে গেল। তারপর গাছটি নিজে নিজেই কেটে নৌকার তক্তা হয়ে গেল। তক্তা গুলি পরস্পর যুক্ত হয়ে গেল। কিছুক্ষনের মধ্যেই আমি সুন্দর একটি নৌকা তৈরি হলো। তারপর নৌকাটি আমার নিকটে চলে আসলো।

আমার তখন খুব ভয় করছিল। তাই নৌকায় উঠতে সাহস পাচ্ছিলাম না। নদীতে আর কোনো নৌকার ছিল না। তাই সাহস করে এই নৌকায় উঠে পড়লাম। মাঝি ছাড়াই নৌকাটি আমাকে যথাস্থানে পৌঁছে দিল। নৌকা থেকে নেমে আমি এখানে চলে এসেছি। এসব ঘটনার কারণে আমার আসতে দেরি হল। 

অদ্ভুত অবিশ্বাস্য এক ঘটনা শুনে সবাই তো হয়ে গেল। তাও আবার ইমামের মুখে। মুসলিমরা সবাই কানাকুনি করতে লাগল। তারা কিছুতেই এটা বিশ্বাস করতে পারছিল না।

আর নাস্তিকরা তো হা হা করে হাসতে লাগল। এক নাস্তিক বললেন আপনি নিশ্চয়ই কিছু খেয়ে এসেছেন (মদ বা নেশা জাতীয়) এমনি এমনি কি এত কিছু হওয়া সম্ভব? আপনি তো পাগলের হয়ে গেছেন  

তখন বিজ্ঞ ইমাম সাহেব বললেন, "আমি না হয় একা পাগল হয়েছি কিন্তু আপনারা যারা নাস্তিক তারা তো সবাই পাগল। আমি শুধুমাত্র একটি গাছ থেকে নৌকা তৈরি হওয়ার ঘটনা বললাম কিন্তু আপনারা বলছেন চন্দ্র সূর্য গ্রহ নক্ষত্র পৃথিবী সব কিছু  একাই সৃষ্টি হয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব? এমনি এমনি এগুলো হতে পারে পারবে কি?

এ প্ৰশ্নের জবাব দেয়ার মতো কোনো উত্তর কোনো নাস্তিক দিতে পারল না। তারা লেজ গুটিয়ে পালালো।



Post a Comment

0 Comments