ভিক্ষুক - দুইডা ট্যাহা দ্যান স্যার। আল্লা আন্নের মঙ্গল করব।
পথচারী - এই ব্যাটা! ভিক্ষা চাইতে তোর শরম করে না।দেখেতো মনে তো হচ্ছে কাজ করার মতো যথেষ্ট শক্তি আছে।
ভিক্ষুক - শক্তি থাকলে কি হইব স্যার? কাম তো পাইনা। আর যদিও দুই এডা কাম পাই হেরাও ঠিকমতো ট্যাহা দেয়না। তাই প্যাট চালাইবার লাইগা এই কাম করি।
পথচারী - এই কাজে যে ইনকাম হয়, তা দিয়ে সংসার চলে কিভাবে?
ভিক্ষুক - মোডামুডি চলে স্যার। আমি আর রহিমার মা মিল্যা কাম করি। তাই খাওয়া খরচের পরও কিছু ট্যাহা থাকে। হেহ ট্যাহা দিয়া পোলা - মাইয়ার লেহাপড়ার পিছনে খরচা করি।
পথচারী - এটা তো খুব ভালো কাজ করেছো। অবশ্যই ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাবে। তবে জীবনে টাকাই সব না এর চাইতে বড় হল আত্মমর্যাদা। এরকম ব্যক্তিরা কখনোই নিজেদের ভিক্ষুক হিসাবে নিজেকে দেখতে চায় না। তারা সমাজে সম্মানের সাথে বসবাস করতে চায়
ভিক্ষুক -- কিন্তু স্যার আমরা যহনি যেই কামে যাই তহন কেউ সম্মান তো করেই না বরং সব্বাই আমাগো খ্যাদায় দেয় আর খারাপ কতা কয়। আবার ঠিক মতোই ট্যাহাও দেয় না। এই জন্য কাম ভালো লাগেনা। ভিক্ষুকের কামে কেউ কিছু কয় না। ইচ্ছা হইলে দেয়, নাইলে দেয়না।
পথচারী - পরিশ্রমের উপার্জনই শ্রেষ্ঠ উপার্জন। আর সম্মান তো প্রত্যাশার জিনিস নয়। এটি অর্জন করতে হয়। আগে নিজেকে সম্মান করতে শিখতে হবে। নিজের সততা, বিবেক ও পরিশ্রম কে সম্মান করতে হবে। সাথে সাথে অন্য কেউ সম্মান করতে হবে।
ভিক্ষুক - সত্যি কতা কইতে কি স্যার, আন্নে আজ আমারে যেমন কইরা বুঝায়া কইলেন এমন কইরা কেউ কোনদিন কয় নাই।
পথচারী - আসলে তোমার মধ্যে আমি এমন কিছু পেয়েছি যা সচরাচর অন্যদের দেখিনা। তোমার ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করার কথা বলেছ তাতে তোমাকে সচেতন বলে মনে হচ্ছে।
ভিক্ষুক - সত্যিই স্যার। আমি ভিক্ষা করি কিন্তু চুরি করি না
পথচারী - তুমি কি কাজ করতে ইচ্ছুক?
ভিক্ষুক - আমায় কাম দেবেন স্যার!
পথচারী - হ্যাঁ, আমার অফিসে কয়েকজন পিয়ন লাগবে।
ভিক্ষুক - স্যার, আমার কয়ডা বন্ধু আছে। ওরাও কি চাকরি করবার পারব।
পথচারী - অবশ্যই। এই নাও আমার কার্ড। আগামীকাল দশটার সময় অফিসে যোগাযোগ করবে।
ভিক্ষুক - আমু স্যার, নিশ্চয়ই আমু।
0 Comments